মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে অবৈধ মাটি কাটা ও পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড রোধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে যৌথবাহিনী। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতভর পরিচালিত এই বিশেষ টাস্কফোর্স (Task Force) অভিযানে সম্রাট খান (৩০) নামে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। আটক সম্রাট খান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাছিম খানের ছোট ছেলে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
অভিযানের প্রেক্ষাপট ও স্থানসমূহ সিরাজদিখান উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে আসছিল। এই অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে শনিবার রাত ১০টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত উপজেলার লতব্দি এলাকার রামকৃষ্ণদি, বালুচরের কয়রাখোলা, বাসাইলের ঘোড়ামারা এবং কেয়াইন এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে এই ব্যাপক অভিযান ও টহল কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
নেতৃত্বে ছিলেন শীর্ষ কর্মকর্তারা অভিযানটির সরাসরি নেতৃত্বে দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ADM) রেজাউল করিম। অভিযানে মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত থেকে সমন্বয় করেন সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন মো. তানজীব, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বারি, এএসপি (সার্কেল) আনোয়ার পারভেজ এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিকী। এছাড়াও সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ (OC) মো. আব্দুল হান্নানসহ সেনা ও পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য এই অভিযানে অংশ নেন।
আটক ও আইনি ব্যবস্থা অভিযান চলাকালে কেয়াইন এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটারত অবস্থায় সম্রাট খানকে হাতেনাতে আটক করা হয়। বর্তমানে তাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল সম্রাট খানই নন, এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য রাঘববোয়ালদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
প্রশাসনের জিরো টলারেন্স ঘোষণা এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক নুরমহল আশরাফী গণমাধ্যমকে জানান, অবৈধ মাটি কর্তন রোধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, “মাটি দস্যুদের বিরুদ্ধে আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ (Zero Tolerance) নীতি গ্রহণ করেছি। ফসলি জমি ধ্বংস করে অবৈধভাবে মাটি কাটা দেশের পরিবেশ ও কৃষির জন্য মারাত্মক হুমকি। এই অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে এবং জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
জনমনে স্বস্তি যৌথবাহিনীর এই সাঁড়াশি অভিযানে স্থানীয় সাধারণ কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা জানান, রাজনৈতিক পরিচয়ের দাপট দেখিয়ে একটি প্রভাবশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক ও অবৈধভাবে মাটি কেটে আসছিল। প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন উপজেলার সচেতন মহল।