টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনাল দরজায় কড়া নাড়ছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে দুই পরাশক্তি ভারত ও ইংল্যান্ড। মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে ঘি ঢেলে দিলেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভন। তার দাবি, ঐতিহ্যগতভাবে ভারত স্পিন বোলিংয়ে শক্তিশালী হলেও এবারের আসরে ইংল্যান্ডের ‘Spin Attack’ ঢের বেশি কার্যকর। এমনকি ভারতকে হারিয়ে জস বাটলারের দলই ফাইনালে উঠবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন এই ক্রিকেট বিশ্লেষক।
ভারতের স্পিন কি ধার হারিয়েছে? ভারত বরাবরই বিশ্বমানের স্পিনার তৈরির কারখানা হিসেবে পরিচিত। এবারের আসরেও তারা ‘Favorite’ হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে মাইকেল ভনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। ‘Test Match Special Podcast’-এ আলাপকালে তিনি জানান, ভারতীয় স্পিনারদের মধ্যে সেই চিরচেনা আতঙ্ক ছড়ানোর ক্ষমতা এবার দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে বরুণ চক্রবর্তীর মতো বোলারদের বিপক্ষে ব্যাটাররা অনায়াসেই চড়াও হয়ে খেলছে বলে মনে করেন তিনি।
ভন বলেন, “কাগজে-কলমে ভারত শক্তিশালী হলেও মাঠের পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ডের স্পিন আক্রমণ অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ। লিয়াম ডসন, আদিল রাশিদ এবং উইল জ্যাকস—এই ত্রয়ী বর্তমানে টুর্নামেন্টের সেরা ‘Spin Unit’। তারা মাঝের ওভারগুলোতে যেভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
ইংল্যান্ডের ‘উইনিং কম্বিনেশন’ ও লড়াইয়ের মানসিকতা এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের যাত্রা খুব একটা মসৃণ ছিল না। গ্রুপ পর্বে নেপালের মতো ছোট দলের কাছে হারতে বসেছিল তারা, হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও। তবে নক-আউট পর্বের আগে ঠিকই জয়ের পথ খুঁজে নিয়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। ভন মনে করেন, সেরা ছন্দে না থাকলেও ম্যাচ জেতার সহজাত ক্ষমতা বা ‘Winning Instinct’ ইংল্যান্ডকে ফাইনালে নিয়ে যাবে।
ব্যাটিংয়ে হ্যারি ব্রুক ছাড়া আর কেউ ধারাবাহিকভাবে রান না পেলেও ইংল্যান্ডের ফিল্ডিং এবং রানিং বিটুইন দ্য উইকেটকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন ভন। তিনি বলেন, “তারা জয়ের পথ খুঁজে বের করেছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি গাণিতিক বিচারে গুরুত্বহীন থাকলেও মানসিক লড়াইয়ে জয়টা বড় ছিল। ব্যাটিংয়ে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও ইংল্যান্ডের ‘Fielding’ এবং সজাগ উপস্থিতি তাদের এগিয়ে রাখছে।”
ওয়াংখেড়েতে ফেবারিট কারা? বৃহস্পতিবারের সেমিফাইনাল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণে ভন স্পষ্টভাবেই ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রেখেছেন। তার মতে, ফিল্ডিং এবং চাপের মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে ব্রুক-সল্টরা অনেক বেশি পরিপক্ক। ভন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “ছোটখাটো বিষয়গুলো যা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকে, ইংল্যান্ড সেগুলো নিখুঁতভাবে করছে। আমার মন বলছে, মুম্বাইয়ের এই মরণ-বাঁচন লড়াইয়ে ইংল্যান্ডই শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি হাসবে।”
ঘরের মাঠে ভারত যখন চেনা কন্ডিশনে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে মরিয়া, তখন ভনের এই মন্তব্য ভারতীয় শিবিরে বাড়তি চাপ তৈরি করবে নাকি কেবলই কথার লড়াই হয়ে থাকবে—তা স্পষ্ট হবে মাঠের লড়াইয়েই।