নারী ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের (AFC Women’s Asian Cup) মূল মঞ্চে অভিষেক হলো বাংলাদেশের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী চীনের মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। তবে প্রথমার্ধ শেষে মাঠের লড়াইয়ে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে রয়েছে কোচ আফিদার শিষ্যরা। রক্ষণাত্মক কৌশলে ম্যাচ শুরু করলেও প্রথমার্ধের একেবারে শেষ মুহূর্তের খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।
৩ মিনিটের ঝড়ে এলোমেলো রক্ষণ ম্যাচের শুরু থেকেই বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক ফুটবল (Defensive Football) খেলার কৌশল বেছে নেয় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের ৪৩ মিনিট পর্যন্ত চীনের আক্রমণভাগকে রুখে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা। তবে ৪৪তম মিনিটে ডেডলক ভাঙেন চীনের তারকা মিডফিল্ডার (Midfielder) ওয়াং সুয়াং। বক্সের বেশ বাইরে থেকে নেওয়া এক দৃষ্টিনন্দন দূরপাল্লার শটে (Long-range shot) গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান তিনি।
এই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৪৬তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করে বাংলাদেশ। চীনের মিডফিল্ডার ঝ্যাং রুইয়ের বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া একটি নিচু শট বাংলাদেশের ডিফেন্ডার ওহাতি কিসকুর পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে (Deflected) জালে প্রবেশ করে। মাত্র ৩ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল হজম করে মানসিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল।
পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা ও অফসাইড ট্র্যাপ গোটা প্রথমার্ধে চীন আধিপত্য বিস্তার করলেও বাংলাদেশ বেশ কয়েকবার পাল্টা আক্রমণে (Counter-attack) ওঠার চেষ্টা করেছে। ম্যাচের ১৪তম মিনিটে উইঙ্গার ঋতুপর্নার একটি জোরালো দূরপাল্লার শট চীনের গোলরক্ষক দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন। অন্যথায় ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। এছাড়া ম্যাচের ২৪তম মিনিটে চীন একবার জালে বল পাঠালেও রেফারি অফসাইডের (Offside) কারণে সেটি বাতিল করে দেন, যা বাংলাদেশের জন্য সাময়িক স্বস্তি নিয়ে এসেছিল। বিরতির ঠিক আগে চীন আরও একটি সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত।
৪৬ বছরের প্রতীক্ষা ও নতুন ইতিহাস বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে আজকের দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ ৪৬ বছর পর এশিয়ান কাপের মতো বড় কোনো আসরে খেলার সুযোগ পেল বাংলাদেশ। সর্বশেষ ১৯৮০ সালে পুরুষ ফুটবল দল এই আসরে অংশ নিয়েছিল। তবে নারী দলের জন্য এটিই প্রথম এশিয়ান কাপের মূল আসর। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের এই লড়াইয়ে চীনের মতো ‘এশিয়ান জায়ান্ট’দের বিপক্ষে লড়াই করা বাংলাদেশের নারী ফুটবলের উন্নতির গ্রাফকেই তুলে ধরছে।
দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণ সামলে আক্রমণে ধার বাড়িয়ে ব্যবধান কমানোর চ্যালেঞ্জ এখন বাংলাদেশের সামনে। শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে গোল পরিশোধের পাশাপাশি চীনের হাই-প্রেসিং ফুটবল (High-pressing football) মোকাবিলা করতে আরও বেশি টেকনিক্যাল ও ট্যাকটিক্যাল সচেতনতার পরিচয় দিতে হবে আফিদার দলকে।