লা লিগার শিরোপা লড়াই এখন খাদের কিনারায়। টানা দুই হারের গ্লানি মুছে চেনা ছন্দে ফেরার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে সেল্টা ভিগোর মাঠে জয় পাওয়াটা মোটেও সহজ ছিল না লস ব্লাঙ্কোসদের (Los Blancos) জন্য। পুরো ম্যাচ জুড়ে বিবর্ণ ফুটবল আর একের পর এক সুযোগ নষ্টের মহড়ায় যখন পয়েন্ট হারানোর শঙ্কা জাগছিল, ঠিক তখনই শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় জয় ছিনিয়ে নিল রিয়াল। ইনজুরি টাইমের (Injury Time) সেই মহামূল্যবান গোলে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে আরবেলোয়ার দল।
ম্যাচের শুরুতেই চুয়ামেনির ঝলক
শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে প্রতিপক্ষের মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের ১০ম মিনিটেই লিড নিতে পারতো তারা, কিন্তু ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত এক প্রচেষ্টা পোস্টে লেগে ফিরে এলে হতাশ হতে হয় ভক্তদের। তবে গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ১১তম মিনিটে ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডের শর্ট কর্নার থেকে বল পান তুর্কি তরুণ প্রতিভা আর্দা গিলার। তার নিখুঁত পাস খুঁজে নেয় অরেলিয়ান চুয়ামেনিকে (Tchouaméni), যিনি জোরালো শটে বল জালে জড়িয়ে রিয়ালকে ১-০ তে এগিয়ে দেন।
সেল্টার পালটা আঘাত ও রিয়ালের রক্ষণভাগ
গোল হজম করে দমে যায়নি সেল্টা ভিগো। নিজেদের মাঠে পাল্টা আক্রমণে রিয়ালের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত করে তোলে তারা। ২৫তম মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরান বোর্হা ইগলেসিয়াস। উইলিয়ট সুইডবার্গের বাড়ানো পাসে অরক্ষিত ইগলেসিয়াস বাঁ পায়ের নিপুণ শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন। এরপর রক্ষণাত্মক কৌশলে রিয়ালকে আটকে রাখে সেল্টা, ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।
দ্বিতীয়ার্ধের স্নায়ুচাপ ও আসপাসের দুর্ভাগ্য
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই রিয়াল মাদ্রিদ বল পজিশনে (Ball Possession) আধিপত্য দেখালেও ফিনিশিংয়ে ছিল চরম ব্যর্থতা। পুরো ম্যাচে ১৪টি শটের মধ্যে মাত্র ৩টি লক্ষ্যে রাখতে পেরেছিল তারা। বিপরীতে সেল্টা ভিগো কাউন্টার অ্যাটাক (Counter-attack) নির্ভর ফুটবল খেলে রিয়ালকে বেশ কয়েকবার বিপদে ফেলেছিল। ম্যাচের ৮৭ মিনিটে রিয়াল নিশ্চিত হারের হাত থেকে বেঁচে যায়, যখন সেল্টার অভিজ্ঞ তারকা ইয়াগো আসপাসের শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে।
ভালভের্দের ‘ম্যাজিক’ ও রুদ্ধশ্বাস সমাপ্তি
ম্যাচ যখন ১-১ ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই দৃশ্যপটে হাজির হন ফেদেরিকো ভালভের্দে। যোগ করা সময়ের (Added Time) চতুর্থ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে এক দূরপাল্লার শট নেন এই মিডফিল্ডার। বল প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়, আর তাতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে রিয়াল শিবির। এই নাটকীয় গোলেই ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত হয় গ্যালাকটিকোদের।
পয়েন্ট টেবিলের বর্তমান সমীকরণ
এই কষ্টার্জিত জয়ের পর লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে বার্সেলোনার সাথে ব্যবধান কমিয়ে ১-এ নামিয়ে আনল রিয়াল মাদ্রিদ। ২৭ ম্যাচে ২০ জয় ও ৩ ড্রয়ে ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে লস ব্লাঙ্কোসরা। অন্যদিকে, এক ম্যাচ কম খেলে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা। শিরোপা জয়ের দৌড়ে টিকে থাকতে এই জয়টি আরবেলোয়ার দলের জন্য ‘লাইফলাইন’ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
২৭ ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে অবস্থান করছে সেল্টা ভিগো। ইনজুরি আর অফ-ফর্মের কবলে থাকা রিয়ালের জন্য এই জয়টি কেবল ৩ পয়েন্ট নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার বড় একটি মাধ্যম।