• খেলা
  • ‘আয়নায় নিজের দিকে তাকাও’, অফ-ফর্মে থাকা বাটলারকে অবসরের কড়া পরামর্শ হার্মিসনের

‘আয়নায় নিজের দিকে তাকাও’, অফ-ফর্মে থাকা বাটলারকে অবসরের কড়া পরামর্শ হার্মিসনের

খেলা ১ মিনিট পড়া
‘আয়নায় নিজের দিকে তাকাও’, অফ-ফর্মে থাকা বাটলারকে অবসরের কড়া পরামর্শ হার্মিসনের

ব্যাটে রান নেই, শরীরী ভাষায় নেই সেই চেনা দাপট— সাদা বলের ক্রিকেটে কি তবে ফুরিয়ে এল জস বাটলারের সময়? ইংল্যান্ডের সাবেক পেসারের মন্তব্যে নতুন করে শুরু হয়েছে জল্পনা।

বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম বিধ্বংসী ব্যাটার হিসেবে যার পরিচিতি, সেই জস বাটলার এখন নিজের ছায়ার সঙ্গেই লড়াই করছেন। সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে চরম ব্যর্থতার পর এবার তাকে নিয়ে কঠোর অবস্থান নিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার স্টিভ হার্মিসন। ফর্মহীনতায় ভোগা বাটলারকে সপাটে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে হার্মিসন বলেছেন, এবার সময় এসেছে আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার।

পরিসংখ্যানে বিবর্ণ এক ‘মডার্ন ডে গ্রেট’

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাটলারের পরিসংখ্যান একজন সাধারণ মানের ব্যাটারের চেয়েও ম্লান। ৮ ইনিংসে মাত্র ১০.৮৭ গড়ে তার ব্যাট থেকে এসেছে কেবল ৮৭ রান। অথচ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার নামের পাশে যে ‘পাওয়ার হিটিং’ (Power Hitting) ও ‘ইমপ্যাক্ট’-এর তকমা রয়েছে, তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি এই টুর্নামেন্টে।

শুধু এই বিশ্বকাপই নয়, বাটলারের ব্যাটে মরচে ধরা শুরু হয়েছে বেশ আগে থেকেই। গত চারটি আইসিসি ইভেন্টের (ICC Events) দিকে তাকালে দেখা যায়, ২৭টি ইনিংসে তিনি ফিফটির দেখা পেয়েছেন মাত্র একবার। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে করা সেই অপরাজিত ৮৩ রানই ছিল তার একমাত্র উল্লেখযোগ্য ইনিংস। এমনকি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে গত ১৫টি ইনিংসেও কোনো হাফ সেঞ্চুরি করতে পারেননি এই ইংলিশ কাপ্তান।

হার্মিসনের ‘মিরর টেস্ট’ ও মানসিক অবসাদের ইঙ্গিত

টকস্পোর্টের (talkSPORT) এক আলোচনায় স্টিভ হার্মিসন বাটলারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি মনে করেন, বাটলারের এখন নিজেকেই প্রশ্ন করার সময় এসেছে। হার্মিসন বলেন, “তাকে আয়নায় নিজের দিকে তাকাতে হবে এবং প্রশ্ন করতে হবে— আমি কি সত্যিই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চালিয়ে যেতে চাই? যদি উত্তর হয় ‘হ্যাঁ’, তবে সে খেলা চালিয়ে যাক। ইংল্যান্ডের হয়ে সাদা বলের ক্রিকেটে সে যা দিয়েছে, তাতে আরেকটি সুযোগ পাওয়ার অধিকার তার আছে।”

তবে হার্মিসনের মূল সংশয় বাটলারের মানসিক অবস্থা নিয়ে। তিনি আরও যোগ করেন, “বাটলারের দিকে তাকিয়ে আমার মনে হচ্ছে না সে ইংল্যান্ডের হয়ে ক্রিকেট খেলা এখন উপভোগ করছে। যদি বিষয়টি তাই হয়, তবে তার বলার সময় এসেছে যে— আমি আমার সেরাটা দিয়েছি, আমি ইংল্যান্ডের হোয়াইট বলের সেরা ক্রিকেটার ছিলাম, এখন অন্য কারও দায়িত্ব নেওয়ার সময়।”

সেমিফাইনাল থেকে বিদায় ও রূপান্তরের ডাক

ব্যক্তিগতভাবে বাটলারের জন্য বিশ্বকাপটি দুঃস্বপ্নের মতো হলেও দল হিসেবে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স ছিল আশাব্যঞ্জক। শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল থ্রি লায়নসরা। শেষ চারের সেই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ভারতের ছুঁড়ে দেওয়া ২৫৩ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৪৬ রান তুলেছিল ইংলিশরা। মাত্র ৭ রানের রোমাঞ্চকর হার দিয়ে বিদায় নিতে হয় দুইবারের চ্যাম্পিয়নদের।

বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর এখন ইংল্যান্ড ক্রিকেটে ‘ট্রানজিশন পিরিয়ড’ (Transition Period) বা পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। বিশেষ করে বাটলারের মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদের ফর্ম এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় নির্বাচকরা হয়তো নতুন পরিকল্পনার কথা ভাবছেন। ক্রিকেটের আধুনিক এই ‘গেম চেঞ্জার’ কি পারবেন হার্মিসনের সেই ‘আয়না পরীক্ষায়’ পাস করে আবার স্বরূপে ফিরতে, নাকি সাদা বলের ক্রিকেটে বাটলার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটবে এখানেই— উত্তর দেবে সময়।

Tags: sports analysis t20 world cup england cricket jos buttler steve harmison cricket form retirement news white ball batting slump team england