ঢালিউডের গ্ল্যামার জগতে এমন কিছু নাম আছে, যাদের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সাজপোশাক—সবই নেটিজেনদের কাছে সব সময় ‘হট টপিক’ (Hot Topic)। এই তালিকার শীর্ষে থাকা অন্যতম নামটি হলো পরীমণি। কখনো তার সিনেমার ঘোষণা, কখনো ব্যক্তিজীবনের নাটকীয়তা, আবার কখনো তার সাহসী স্টাইল স্টেটমেন্ট—পরীমণি মানেই খবরের শিরোনাম। তবে এবার খবরের বিষয় তার অভিনয় নয়, বরং তার আমূল শারীরিক পরিবর্তন বা ‘ফিজিক্যাল ট্রান্সফরমেশন’ (Physical Transformation)।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নতুন ‘স্লিম লুক’ সম্প্রতি বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীমণির উপস্থিতিতে এক নতুন পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন ভক্তরা। আগের তুলনায় তাকে অনেকটাই স্লিম বা ছিপছিপে গড়নে দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তন নজরে আসার পর থেকেই বিনোদন পাড়ায় শুরু হয় জল্পনা। নেটিজেনদের অনেকের মতে, নতুন এই লুকে তাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি আকর্ষণীয় ও আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এই ভোলবদলের নেপথ্যে রহস্য কী? ডায়েট নাকি কঠোর জিম—কোন ম্যাজিকে নিজেকে বদলে ফেললেন এই অভিনেত্রী?
‘স্টুপিড কোয়েশ্চন’ ও পরীমণির তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জনৈক সাংবাদিক যখন এই কৌতূহল মেটাতে প্রশ্নটি করেন—‘পরীমণি এত স্লিম হলেন কীভাবে?’—তখনই যেন স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়ে। প্রশ্নটি শেষ হতে না হতেই মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ করেন নায়িকা। কিছুটা বিরক্তি আর অনেকটা দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি এই প্রশ্নকে সরাসরি ‘স্টুপিড কোয়েশ্চন’ (Stupid Question) বলে অভিহিত করেন। পরীর এমন কড়া জবাবে উপস্থিত সকলেই কিছুটা থতমত খেয়ে যান।
সৌন্দর্যের নতুন বয়ান: বডি পজিটিভিটি (Body Positivity) কেন এই প্রশ্নটি তার কাছে অপ্রাসঙ্গিক বা ‘স্টুপিড’ মনে হলো, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন পরীমণি। তিনি মনে করেন, একজন শিল্পীর সৌন্দর্যকে কেবল ওজন বা শারীরিক কাঠামোর মানদণ্ডে বিচার করা উচিত নয়। তিনি বলেন, “কেউ যদি সৌন্দর্যের প্রশংসা করেন, সেটি অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু মানুষ মোটা না চিকন, ফরসা না কালো—এই বিষয়গুলো নিয়ে বারবার ব্যবচ্ছেদ করা আধুনিক যুগের মানসিকতা হতে পারে না।”
তার মতে, সৌন্দর্যের কোনো একক বা ধ্রুব সংজ্ঞা নেই। মোটা বা চিকন—সব রূপেই একজন মানুষ সুন্দর হতে পারেন যদি তার আত্মবিশ্বাস অটুট থাকে। সামাজিকভাবে প্রচলিত ‘বিউটি স্ট্যান্ডার্ড’ (Beauty Standard)-কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি মূলত ‘বডি পজিটিভিটি’র পক্ষেই নিজের শক্ত অবস্থান জানান দিলেন।
ভক্তদের আগ্রহ ও সোশ্যাল মিডিয়া হাইপ (Social Media Hype) পরীমণির এই কড়া জবাব মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। কেউ কেউ তার এই সরাসরি কথা বলার ভঙ্গি বা ‘অ্যাটিটিউড’ (Attitude)-এর প্রশংসা করছেন, আবার কেউ মনে করছেন প্রশ্নটি সাধারণ কৌতূহল থেকেই করা হয়েছিল। তবে সমালোচকরা যে যাই বলুক না কেন, পরীমণিকে নিয়ে এই ‘হাইপ’ (Hype) প্রমাণ করে যে, তিনি কেবল বড় পর্দায় নয়, বরং পর্দার বাইরেও নিজের শর্তে চলেন এবং দর্শকদের মনোযোগের কেন্দ্রে থাকতে জানেন।
স্লিম হওয়া বা ওজন কমানো নিয়ে এই বিতর্ক হয়তো থেমে যাবে, কিন্তু আধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সৌন্দর্য নিয়ে যে দৃষ্টিভঙ্গির বদল আসা প্রয়োজন, পরীমণির এই কড়া জবাব সেই বার্তাটিই সজোরে দিয়ে গেল।