অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে টালমাটাল বিনোদন অঙ্গন। এই ঘটনার রেশ ধরে এবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ছোট পর্দার পরিচিত মুখ ইফফাত আরা তিথি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং ‘সাইবার বুলিং’ (Cyber Bullying)-এর শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত আইনের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) করেছেন এই অভিনেত্রী।
সংকটে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সাইবার ট্রায়াল তিথি জানান, গত কয়েকদিন ধরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তাকে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন আক্রমণ চালানো হচ্ছে। কেবল মৌখিক গালিগালাজই নয়, তাকে সরাসরি হত্যা ও ধর্ষণের মতো গুরুতর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অভিনেত্রীর অভিযোগ, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বাসার ঠিকানা জনসমক্ষে ছড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি তার ব্যক্তিগত ‘কল রেকর্ড’ (Call Record) সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস করে দিয়ে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা ‘প্রাইভেসি’ (Privacy) লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ঘর থেকে বের হতেও আতঙ্ক বোধ করছেন তিনি।
নেপথ্যে পরকীয়ার অভিযোগ ও সামাজিক অস্থিরতা অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী ইকরার আত্মহত্যার পর থেকেই অভিযোগের আঙুল ওঠে তিথির দিকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে, তিথির সঙ্গে আলভীর পরকীয়া সম্পর্কের কারণেই এই ট্র্যাজেডি ঘটেছে। তবে তিথি এই বিষয়টিকে একতরফা বিচার বা ‘ডিজিটাল ট্রায়াল’ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাকে জনসমক্ষে অপরাধী সাব্যস্ত করার চেষ্টা চলছে, যা তার সামাজিক মর্যাদা ও মানসিক অবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
ভিউ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পর তিথি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমি যদি কোনো অপরাধ করে থাকি, তবে দেশের প্রচলিত আইন ও আদালতের মাধ্যমে তার বিচার হবে। কিন্তু বর্তমানে কিছু ‘ভিউ ব্যবসায়ী’ বা তথাকথিত ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ (Content Creator) স্রেফ সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য আমার জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে।" তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ধরনের ‘সাইবার ট্রায়াল’ তিনি আর মুখ বুজে সহ্য করবেন না। যারা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি বা মানহানিকর বক্তব্য ছড়াচ্ছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা পুরো বিষয়টি ইতোমধ্যে পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের নজরে আনা হয়েছে। তিথি জানিয়েছেন, তাকে দেওয়া প্রতিটি হুমকি এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রমাণ (Screenshots and Links) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং অভিনেত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ডিজিটাল হয়রানি বন্ধে তিনি আরও কঠোর আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
একজন উদীয়মান অভিনেত্রীর এই আইনি লড়াই কেবল নিজের জন্য নয়, বরং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিচারহীনতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ প্রতিবাদ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।