শুরুটা হয়েছিল মাত্র ১৬ বছর বয়সে একটি রিয়েলিটি শোর মঞ্চ থেকে। আজ দুই দশক পেরিয়ে সেই কিশোরীই ভারতীয় সংগীত জগতের সবচেয়ে দামি নারী নক্ষত্র। তিনি শ্রেয়া ঘোষাল। সুমিষ্ট কণ্ঠ আর ধ্রুপদী গায়কীর জাদুতে কেবল শ্রোতাদের হৃদয় জয় করাই নয়, পারিশ্রমিকের দিক থেকেও ভারতের সমস্ত নারী প্লেব্যাক সিঙ্গারকে (Playback Singer) ছাড়িয়ে গেছেন এই জাতীয় পুরস্কারজয়ী শিল্পী।
প্রতি গানে রেকর্ড পারিশ্রমিক বিনোদন জগতের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে শ্রেয়া ঘোষাল প্রতিটি গানের জন্য প্রায় ৩০ লাখ রুপি পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। ভারতের সংগীত ইতিহাসে কোনো নারী কণ্ঠশিল্পীর জন্য এটিই সর্বোচ্চ ‘রিমুনারেশন’ (Remuneration)। পারিশ্রমিকের এই দৌড়ে তিনি পেছনে ফেলেছেন সমসাময়িক অনেক জনপ্রিয় তারকাকে। যদিও পুরুষ শিল্পীদের মধ্যে অস্কারজয়ী এ আর রহমান এখনও শীর্ষে রয়েছেন, তবে নারী শিল্পীদের তালিকায় শ্রেয়ার আধিপত্য এখন অবিসংবাদিত। তার ঠিক পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন পাওয়ার-হাউস গায়িকা সুনিধি চৌহান।
রিয়েলিটি শো থেকে বলিউডের রাজপথ শ্রেয়া ঘোষালের এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল ‘সারেগামাপা’ রিয়েলিটি শোর মাধ্যমে। সেখানে তার প্রতিভা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন প্রখ্যাত নির্মাতা সঞ্জয় লীলা বানসালি। এরপর শাহরুখ খান অভিনীত ‘দেবদাস’ সিনেমায় প্লেব্যাকের সুযোগ পান তিনি। প্রথম সিনেমাতেই নিজের জাত চিনিয়েছিলেন শ্রেয়া। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। হিন্দি, বাংলা, তামিল, তেলেগুসহ প্রায় ২০টিরও বেশি ভাষায় ৩ হাজারেরও বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। তার গায়কী ও কণ্ঠের বৈচিত্র্য তাকে পৌঁছে দিয়েছে অনন্য উচ্চতায়।
২৪০ কোটির সাম্রাজ্য ও বিলাসবহুল জীবনযাপন শুধুমাত্র প্লেব্যাক নয়, শ্রেয়ার আয়ের একটি বড় অংশ আসে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনসার্ট’ (International Concert) এবং বিভিন্ন রিয়েলিটি শোর বিচারকের দায়িত্ব পালন থেকে। বর্তমানে তার মোট সম্পদের (Net Worth) পরিমাণ আনুমানিক ২৪০ কোটি টাকা।
আভিজাত্যের দিক থেকেও তিনি কোনো বলিউড সুপারস্টারের চেয়ে কম নন। মুম্বাই এবং কলকাতায় তার রয়েছে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট। পাশাপাশি তার সংগ্রহে রয়েছে বিশ্বসেরা ব্র্যান্ডের সব গাড়ি। বিএমডব্লিউ ৫ সিরিজ (BMW 5 Series), রেঞ্জ রোভার স্পোর্ট (Range Rover Sport) এবং মার্সিডিজ-বেঞ্জের (Mercedes-Benz) মতো দামী সব মডেল শোভা পায় তার গ্যারেজে।
ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাদারিত্বের ভারসাম্য বিপুল খ্যাতি আর সম্পদের মালিক হয়েও শ্রেয়া ঘোষাল সবসময়ই প্রচারবিমুখ এবং বিনয়ী হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিনের বন্ধু শিলাদিত্য সান্যালকে বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন তিনি। তাদের কোল আলো করে এসেছে এক পুত্র সন্তান। ব্যক্তিগত জীবন এবং পেশাদার ক্যারিয়ার—উভয় ক্ষেত্রেই এক চমৎকার ভারসাম্য বজায় রেখে চলেন এই ‘মেলোডি কুইন’।
সংগীত বোদ্ধাদের মতে, শ্রেয়ার এই সাফল্য কেবল টাকার অংকে পরিমাপযোগ্য নয়; বরং তার নিষ্ঠা, নিয়মিত রেওয়াজ এবং সংগীতের প্রতি নিখাদ ভালোবাসাই তাকে ভারতের সবচেয়ে দামী এবং সম্মানিত কণ্ঠশিল্পীতে পরিণত করেছে। ভবিষ্যতে তার এই জয়যাত্রা আরও দীর্ঘ হবে, এমনটাই প্রত্যাশা ভক্তদের।