প্রেমিকার সামান্য আবদার মেটাতে গিয়ে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে এক ভয়াবহ কাণ্ড ঘটিয়ে বসলেন এক যুবক। চোখের ‘কন্টাক্ট লেন্স’ (Contact Lens) পরিবর্তন করা নিয়ে দোকান কর্মচারীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা চালান তিনি। তবে তার সেই ‘হিরোইজম’ টেকেনি বেশিক্ষণ। কর্মচারীকে কোপানোর আগেই স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাহসিকতায় আটক হয়ে এখন শ্রীঘরে ওই উন্মত্ত প্রেমিক।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে বরিশাল নগরীর ব্যস্ততম সদর রোড এলাকার ‘চশমা বাজার’ নামক একটি দোকানে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে অভিযুক্ত যুবক সাফিনের প্রেমিকা ওই দোকান থেকে এক জোড়া কন্টাক্ট লেন্স কিনেছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি লেন্স দুটি পরিবর্তন (Exchange) করার জন্য পুনরায় দোকানে আসেন। দোকানের কর্মচারী রিপন তাকে জানান যে, লেন্স ব্যবহারের পর নির্দিষ্ট ‘টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন’ (Terms and Conditions) অনুযায়ী তা পরিবর্তন করার সুযোগ নেই। এই নিয়ম ও শর্তাবলি নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
সদরে রোডে লঙ্কাকাণ্ড বাকবিতণ্ডার খবর পেয়ে সেখানে হাজির হন প্রেমিক সাফিন। পরিস্থিতি শান্ত করার পরিবর্তে তিনি মুহূর্তেই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং দোকানের কর্মচারীদের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে সাফিন তার কোমরে লুকিয়ে রাখা একটি ধারালো দেশীয় ‘দা’ বের করে রিপনের ওপর অতর্কিত হামলার চেষ্টা চালান। জনাকীর্ণ সদর রোডে এমন আকস্মিক ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তবে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই পাশের দোকানের ব্যবসায়ীরা দ্রুত তৎপরতা দেখান। তারা সাহসিকতার সঙ্গে সাফিনকে জাপটে ধরে ফেলেন এবং তাকে নিরস্ত্র করেন। পরে তার দেহ তল্লাশি করে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোতোয়ালি মডেল থানায় খবর দেওয়া হয়।
পুলিশি তৎপরতা ও আইনি ব্যবস্থা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে (Spot) পৌঁছায় পুলিশের একটি দল। ব্যবসায়ীরা অভিযুক্ত সাফিনকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টার অভিযোগে এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে রক্তারক্তি ঘটানোর উদ্দেশ্যে রাখা একটি ধারালো দা জব্দ করা হয়েছে।"
ওসি আরও জানান, জনাকীর্ণ স্থানে এমন দুর্ধর্ষ আচরণের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য বিরাজ করছে। এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল যে, ব্যক্তিগত জেদ আর আইন অমান্যের সংস্কৃতি কীভাবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিচ্ছে।