সিলেট ও সুনামগঞ্জের সীমান্তরেখায় চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য রুখতে বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পৃথক অভিযানে প্রায় ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে বিজিবি’র সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিজিবি এই অভিযান ও উদ্ধারকৃত পণ্যের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যে সাঁড়াশি অভিযান বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে বিপুল পরিমাণ পণ্য প্রবেশের সুনির্দিষ্ট ‘ইন্টেলিজেন্স’ (Intelligence) তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সিলেট ব্যাটালিয়নের টহল দলগুলো জেলার বাংলাবাজার, পান্থুমাই, মিনাটিলা, সংগ্রাম ও বিছনাকান্দি সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেয়। বিজিবির ‘কৌশলগত তৎপরতা’ ও সাঁড়াশি অভিযানের মুখে চোরাকারবারিরা পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং ঘটনাস্থলে মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়।
জব্দকৃত পণ্যের দীর্ঘ তালিকা: কী ছিল বিজিবির জালে? উদ্ধারকৃত চোরাচালানি পণ্যের তালিকায় দৈনন্দিন ব্যবহার্য পণ্য থেকে শুরু করে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ—সবই ছিল। জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে:
মেডিকেল ও কসমেটিকস সামগ্রী: বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বেটানোভেট ক্রিম, বিভিন্ন ধরনের জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, কসমেটিকস সামগ্রী এবং মেহেদি।
খাদ্য ও নিত্যপণ্য: উচ্চমানের জিরা, বাসমতি ফ্লেভার পাউডার, চিনি, চা পাতা, চকলেট, বিস্কুট, পুডিং পাউডার, নারিকেল ও বিভিন্ন মৌসুমি ফল।
অন্যান্য সরঞ্জাম: মোটরসাইকেলের খুচরা যন্ত্রাংশ (Spare Parts), ইমিটেশন চেইন এবং বিপুল পরিমাণ আতশবাজি।
গবাদি পশু ও পাচার রোধে সাফল্য সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে নিয়ে আসা বেশ কয়েকটি ভারতীয় গরু ও মহিষও উদ্ধার করতে সক্ষম হয় বিজিবি। এছাড়া কেবল ভারত থেকে আনা পণ্যই নয়, বাংলাদেশ থেকে ভারতে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ শিং মাছ এবং পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ‘টাটা ট্রাক’ (Tata Truck) জব্দ করা হয়েছে। এই ‘লজিস্টিক’ (Logistics) সরঞ্জামগুলো চোরাচালানের কাজে বড় পরিসরে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনি পদক্ষেপ সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক এই অভিযানের বিষয়ে বলেন, "সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব ধরনের চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবি বদ্ধপরিকর। আমাদের ‘সার্ভেইলেন্স’ (Surveillance) এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বর্তমানে অনেক বেশি শক্তিশালী করা হয়েছে।" তিনি আরও জানান, জব্দকৃত মালামাল স্থানীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মতে, বিজিবির এমন কড়া নজরদারির ফলে চোরাচালান চক্রগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। দেশের অর্থনীতি রক্ষা এবং দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় সীমান্তের এই ‘বর্ডার সিকিউরিটি’ (Border Security) অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে বিজিবি কর্তৃপক্ষ।