রোজার ঈদকে সামনে রেখে রংপুর নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণিবিতানে ভিড় বেড়েছে। তবে এবার পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
জেলার গংগাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকা থেকে আসা রহিম উদ্দিন বলেন, “বাবা বাচ্চাদের জন্য ঈদের কাপড়-চোপড় কিনতে আসলাম কিন্তু দাম এবার বেশি। আর হামার আলুর তো দাম নাই।”
একই অভিযোগ লালবাগ এলাকা থেকে আসা আতিক উল আলম কল্লোলেরও। তিনি বলেন, “গতবারের চেয়ে এবারে কাপড়ের দাম বেশি। প্রতিটি পোশাকের দাম ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশি মনে হচ্ছে।”
তবে এমন অভিযোগের মধ্যে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নতুন পোশাক, জুতা, প্রসাধনী ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রীর দোকানে চলছে জমজমাট বেচাকেনা।
নগরীর নিউ মার্কেট, জাহাজ কোম্পানি মোড়, সিটি বাজারসহ বিভিন্ন বিপণিবিতান ঘুরে দেখা যায় পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন নগরবাসী।
বিশেষ করে শিশু ও তরুণ-তরুণীদের পোশাকের দোকানগুলোতে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
আরেক ক্রেতা শ্রাবনী আকতার বলেন, “গত বছরের তুলনায় কিছু পোশাকের দাম বেড়েছে। তারপরও ঈদের আনন্দের জন্য পরিবারের সবার জন্য কিছু না কিছু কিনতে হচ্ছে।”
কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতা ধাপাশমুল বাগ এলাকার কোহিনুর আকতার বলেন, “ঈদ সামনে তাই পরিবারের সবার জন্য নতুন পোশাক কিনতে মার্কেটে এসেছি। ভিড় একটু বেশি হলেও পছন্দমতো জিনিস কেনার চেষ্টা করছি।”
সুপার মার্কেটের মিলন গার্মেন্টসের ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলছেন, “ইতোমধ্যে বিক্রি বাড়তে শুরু করেছে। ঈদের আগের কয়েকদিনে বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে আশা করি।”
ক্রেতাদের অভিযোগ নিয়ে পোশাক ব্যবসায়ী ফারুক মিয়া বলেন, “এখন সবকিছুরই দাম বাড়ছে। এর মধ্যেই আমরা সীমিত লাভেই পোশাক বিক্রি করছি। ঈদের আগের দুই-তিন দিন সবচেয়ে বেশি বেচাকেনা হবে বলে আমরা আশা করছি।তখন হয়তো দাম কমতে পারে।”
এদিকে ক্রেতাদের ভিড় সামাল দিতে নগরীর বিভিন্ন মার্কেটে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মার্কেট কমিটির পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
রংপুর মহানগর পুলিশের পুলিশ কমশিনার আব্দুল মজিদ বলেন, ঈদকে সামনে রেখে নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যাতে ক্রেতারা নিরাপদে কেনাকাটা করতে পারেন।