ভোক্তার থালায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়ল একটি তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে। অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে সরিষার তেল উৎপাদনের অভিযোগে জেলা শহরের একটি নামী কারখানাকে অর্থদণ্ড দিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার জগৎ বাজারে এই বিশেষ ‘Drive’ পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে উন্মোচিত হলো কারখানার বিপজ্জনক চিত্র
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা নিরাপদ খাদ্য অধিদফতরের সহযোগিতায় যমুনা অয়েল মিলে ঝটিকা অভিযান চালায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। কারখানার ভেতরে প্রবেশ করেই আভিযানিক দল দেখতে পায় চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র। সরিষার তেলের মতো একটি সংবেদনশীল খাদ্যদ্রব্য যেখানে উৎপাদিত হচ্ছে, সেখানকার পরিবেশ ছিল পুরোপুরি ‘Unsanitary’।
সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানার মেঝে এবং দেয়ালসহ প্রতিটি আসবাবপত্র স্যাঁতসেঁতে ও ময়লাযুক্ত। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় ছিল শ্রমিকদের ব্যক্তিগত ‘Hygiene’। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে শ্রমিকরা সেখানে খালি গায়ে কাজ করছিলেন, যা সরাসরি উৎপাদিত পণ্যের গুণমান ও বিশুদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
কেন এই কঠোর দণ্ড?
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারী পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন। তিনি জানান, সরিষার তেল বাঙালির খাদ্য তালিকায় একটি অপরিহার্য উপাদান এবং এটি অনেক ক্ষেত্রে সরাসরি বা কাঁচা খাওয়া হয়। ফলে এর উৎপাদনে সামান্যতম অবহেলাও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
রিজভী বলেন, "যমুনা অয়েল মিলে সরিষার তেল প্রস্তুত করার যে প্রক্রিয়া আমরা দেখেছি, তা কোনোভাবেই ‘Food Safety Standard’ বা মানসম্মত নয়। কারখানার স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এবং শ্রমিকদের অসতর্কতা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। এই গুরুতর অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।"
সতর্কবার্তা ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা
জরিমানার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে ভবিষ্যতের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কারখানার পরিবেশ উন্নত না করা হয় এবং নির্ধারিত ‘Compliance’ বা নিয়মাবলী না মানা হয়, তবে কারখানাটি স্থায়ীভাবে সিলগালা করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে প্রশাসন।
অভিযান শেষে কর্মকর্তারা জানান, রমজান মাসকে সামনে রেখে ভোজ্যতেলের মান ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের তদারকি আরও জোরদার করা হবে। মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা যাতে জনস্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সে জন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং কারখানায় তল্লাশি অব্যাহত থাকবে।
সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছে, কেবল জরিমানা নয়, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলসহ আরও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।