বিগত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যে স্থবিরতা ও নজিরবিহীন বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তাঁর মতে, আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশকে অগ্রগতির পথে ধাবিত করতে হলে একটি শক্তিশালী ও বৈষম্যহীন Digital Infrastructure গড়ে তোলা অপরিহার্য।
প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত ও তারেক রহমানের ভিশন
রোববার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইসিটি ফোরাম আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মঈন খান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, "বিগত ১৭ বছরে এই সেক্টরে যে বিশাল নীতিগত ও অবকাঠামোগত বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে, সেটি কাটিয়ে উঠতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব এবং আধুনিক চিন্তা-ভাবনা অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।" তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী দিনে ICT Sector-এ নতুন প্রাণের সঞ্চার হবে এবং প্রযুক্তির সুফল দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে যাবে।
তথ্য মহাসড়ক ও দ্রুততর নাগরিক সেবা
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হলে Information Highway বা তথ্য মহাসড়কে বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে হবে। তিনি মনে করেন, যত দ্রুত দেশ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হতে পারবে, ততই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, সরকার ডিজিটাল বৈষম্য দূর করে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিতে কাজ করছে।
মেগা প্রজেক্ট বনাম তৃণমূলের কল্যাণ
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ-উর-রহমান তাঁর বক্তব্যে বড় বড় Mega Project-এর চেয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ওপর বেশি জোর দেন। তিনি বলেন, বিশাল অংকের বাজেট খরচ করে শুধু দৃশ্যমান অবকাঠামো নির্মাণের চেয়েও তৃণমূলের মানুষের উপকার বিবেচনায় 'ফ্যামিলি কার্ড' (Family Card)-এর মতো কর্মসূচিগুলো এখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও যোগ করেন, "জনগণের দোরগোড়ায় সেবা যদি সত্যিকার অর্থে পৌঁছাতে হয়, তবে সেখানে আইসিটি খাতকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। এতে করে দুর্নীতি কমবে এবং নাগরিকরা হয়রানিমুক্ত সেবা পাবেন।"
তথ্যপ্রযুক্তিতে নতুন দিনের প্রত্যাশা
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা একমত হন যে, আগামীর আধুনিক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই হবে না, বরং নতুন নতুন উদ্ভাবন এবং Job Creation বা কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকে নজর দিতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের এই সংষ্কার প্রক্রিয়ায় তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।
উক্ত ইফতার মাহফিলে আইসিটি খাতের বিশেষজ্ঞ, পেশাজীবী এবং বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।