সংবিধান সংস্কার পরিষদের ভবিষ্যৎ ও আইনি বাধ্যবাধকতা
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, আজ ১৫ মার্চ সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার শেষ দিন। নিয়ম অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী জনপ্রতিধিদের একই দিনে দুটি শপথ নেওয়ার কথা ছিল—একটি সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। কিন্তু গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানে বিএনপি থেকে নির্বাচিতরা সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকার করেন। তাদের দাবি, সংবিধানে এই পরিষদের শপথ নিয়ে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই।
১১-দলীয় জোটের আল্টিমেটাম ও আন্দোলনের হুমকি
জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটি গতকাল এক জরুরি বৈঠকে বসে। বৈঠক শেষে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকলে সরকার জনগণের কাছে দায়ী থাকবে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি সরকার গঠনের পর তাদের আগের অবস্থান থেকে 'ইউটার্ন' নিয়েছে এবং গণভোটের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। দাবি পূরণ না হলে শিগগিরই রাজপথে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তিনি জানান।
বিএনপির অবস্থান ও ভিন্নমতের জায়গা
ক্ষমতাসীন দল বিএনপি জুলাই সনদের অনেকগুলো প্রস্তাবের সঙ্গে একমত হলেও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস, উচ্চকক্ষ গঠন এবং কিছু সাংবিধানিক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় ভিন্নমত পোষণ করছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি নিয়ে সংসদের ফ্লোরে আলোচনা হতে পারে। বিএনপি নেতাদের যুক্তি, সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে সংস্কার পরিষদের শপথের ফরম যুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা এই শপথ নিতে পারেন না।
ঝুলে গেছে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন
সংবিধানের মোট ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের দায়িত্ব এই পরিষদের। কিন্তু সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির সদস্যরা শপথ না নেওয়ায় পরিষদটি পূর্ণতা পায়নি। এদিকে, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও শপথের বৈধতা নিয়ে উচ্চ আদালতে রিটও করা হয়েছে। সব মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া এই মৌলিক সংস্কার উদ্যোগের ভবিষ্যৎ এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।