ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবগঠিত বিশেষ কমিটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে আজ। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং সংসদীয় কার্যক্রমে এই কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বৈঠকের সময় ও স্থান সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে এই প্রথম বৈঠকটি বসবে। এতে কমিটির সভাপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম সভাপতিত্ব করবেন। গত ১৫ মার্চ স্পিকারের বিশেষ ক্ষমতাবলে এই কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
১৩৩ অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ এই বিশেষ কমিটির প্রধান কাজ হলো অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা। গত ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান এই অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন করেন। এই অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে কোনগুলো আইন হিসেবে বহাল থাকবে এবং কোনগুলো বাতিল করা হবে, তা এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত করা হবে।
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা সংবিধান অনুযায়ী, সংসদে অধ্যাদেশ উত্থাপনের পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সেগুলো অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অন্যথায় অধ্যাদেশগুলোর কার্যকারিতা বিলুপ্ত হয়ে যায়। ফলে সময়ের কথা বিবেচনা করে এই কমিটি দ্রুত যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শেষ করতে চায়। কমিটির আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ তৈরি করা হবে।
এর আগে স্পিকার সংসদ অধিবেশনে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, আইন প্রণয়ন ও পর্যালোচনার ক্ষেত্রে সংসদীয় নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। আজকের বৈঠকের মধ্য দিয়ে সেই প্রক্রিয়াই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।