• আন্তর্জাতিক
  • ট্রাম্পের ‘যুদ্ধবিরতি’ বার্তার জাদুকরী প্রভাব: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে রেকর্ড ধস

ট্রাম্পের ‘যুদ্ধবিরতি’ বার্তার জাদুকরী প্রভাব: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে রেকর্ড ধস

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
ট্রাম্পের ‘যুদ্ধবিরতি’ বার্তার জাদুকরী প্রভাব: আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে রেকর্ড ধস

ইরানের ওপর হামলা স্থগিতের ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে স্বস্তি; ব্যারেলপ্রতি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একধাক্কায় ১৫ শতাংশ কমে ১০০ ডলারের নিচে

দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল বিশ্ব অর্থনীতি। ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে আগামী পাঁচ দিনের জন্য সব ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২৩ মার্চ) হোয়াইট হাউসের এই নাটকীয় ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে (Global Energy Market) তেলের দামে এক বিশাল ধস নেমেছে।

সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেলের বৈশ্বিক বাজারদর গড়ে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

প্যারামিটার ও বাজার বিশ্লেষণ: একদিনেই রেকর্ড পতন

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ‘ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল’ (Brent Crude Oil)-এর দাম প্রতি ব্যারেলে ১৭ ডলার কমে বর্তমানে ৯৬ ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমেছে প্রায় ১৫ শতাংশ।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারদর নির্দেশক ‘ইউএস টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট’ (WTI)-এর দামও প্রতি ব্যারেলে ১৩ ডলার হ্রাস পেয়েছে। যা আগের তুলনায় ১৩.৫ শতাংশ কম। বর্তমানে এই তেল প্রতি ব্যারেল ৮৫.২৮ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। এই আকস্মিক দরপতনকে বিনিয়োগকারীরা ‘মার্কেট সেন্টিমেন্ট’ (Market Sentiment)-এর এক অভাবনীয় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।

উত্তেজনার প্রেক্ষাপট ও উচ্চমূল্যের কারণ

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বেজে ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয় এবং আংশিক অবরোধ আরোপ করে। ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা (Supply Chain) বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম হু হু করে বাড়তে থাকে।

এক পর্যায়ে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করে ১০৬ ডলার পর্যন্ত স্পর্শ করেছিল। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় এই ‘ভলাটিলিটি’ (Volatility) বা অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।

কূটনৈতিক কৌশলে স্থিতিশীলতার আভাস

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ৫ দিনের ‘টেকনিক্যাল পজ’ বা হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত মূলত আলোচনার পথ প্রশস্ত করার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যদি এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি টেকসই সমঝোতা বা ‘ডিল’ (Deal) নিশ্চিত হয়, তবে তেলের দাম আরও কমে আসতে পারে।

তবে ভূ-রাজনীতিবিদদের মতে, এই স্থিতিশীলতা অত্যন্ত ভঙ্গুর। যদি পাঁচ দিন পর পুনরায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, তবে তেলের বাজার আবার অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের এই ‘ডি-এস্কেলেশন’ (De-escalation) নীতি বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির (Inflation) চাপে থাকা দেশগুলোর জন্য একটি বড় ধরনের ইতিবাচক বার্তা বয়ে এনেছে।

এনার্জি অ্যানালিস্টদের মতে, সরবরাহ চেইন পুনরায় স্বাভাবিক হতে শুরু করলে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে নির্বিঘ্নে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত হলে জ্বালানি তেলের এই নিম্নমুখী প্রবণতা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

Tags: market crash brent crude supply chain geopolitical tension trump iran oil price crude oil energy market