যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের পোর্ট আর্থার শহরে অবস্থিত একটি বিশাল তেল শোধনাগারে (Oil Refinery) ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবারের এই শক্তিশালী বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, এর প্রভাবে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে স্থানীয় নগর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে শোধনাগারের পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
বিস্ফোরণটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ তেল ও গ্যাস উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভালেরো’র (Valero Energy) মালিকানাধীন একটি প্ল্যান্টে।
আকাশজুড়ে কালো ধোঁয়া ও বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তর
বিস্ফোরণের পরপরই পোর্ট আর্থার নগর কর্তৃপক্ষের জরুরি অবস্থা বিভাগ (Emergency Management) থেকে একটি বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভালেরোর তেল শোধনাগারে আকস্মিক বিস্ফোরণের পরিপ্রেক্ষিতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত স্থান ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। শোধনাগার সংলগ্ন সব এলাকার মানুষ যেন দ্রুততম সময়ে শেল্টার বা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে রওনা হন।”
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ কয়েক মাইল দূর থেকেও শোনা গেছে। প্রচণ্ড কম্পনে আশপাশের অনেক ঘরবাড়ির জানালার কাঁচ ভেঙে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, শোধনাগারটি থেকে বিশালাকার আগুনের শিখা আকাশে উঠছে এবং কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলীতে ছেয়ে গেছে বিস্তীর্ণ আকাশ।
ভালেরো কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও কর্মীদের নিরাপত্তা
ঘটনার কিছুক্ষণ পর ভালেরো কোম্পানি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, টেক্সাসের পোর্ট আর্থার শোধনাগারে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে আশস্তকর বিষয় হলো, শোধনাগারে কর্মরত ৮০০ কর্মীর সবার অবস্থান নিশ্চিত করা গেছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, “বর্তমানে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো কর্মীদের সুরক্ষা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা। শোধনাগারের ভেতর কেউ নিখোঁজ বা আটকা পড়ে নেই।”
জ্বালানি বাজারে প্রভাবের শঙ্কা
পোর্ট আর্থার শহরটি টেক্সাসের রাজধানী হিউস্টন থেকে প্রায় ৯০ মাইল পূর্বে অবস্থিত। ভালেরোর এই শোধনাগারটি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালেরোর তথ্য অনুযায়ী, এই প্ল্যান্টটি প্রতিদিন গড়ে ৪ লাখ ৩৫ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধন (Oil Refining) করে। এছাড়া এখান থেকে বিপুল পরিমাণ গ্যাসোলিন, ডিজেল এবং জেট ফুয়েল (Jet Fuel) উৎপাদিত হয়।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার ফলে প্ল্যান্টটির উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে (Energy Market)। অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে। তবে ঠিক কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ঘটনার তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।