দেশের টেলিভিশন জগতের ধ্রুবতারা এবং জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র রূপকার হানিফ সংকেত সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন। তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে বেশ কিছু ‘ভুয়া’ ফটোকার্ড ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব। বিষয়টিকে কেবল অনৈতিক নয়, বরং দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
অপপ্রচারের কবলে হানিফ সংকেত গত ২৫ মার্চ থেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন Social Media প্ল্যাটফর্মে কয়েকটি ফটোকার্ড ভাইরাল হতে দেখা যায়। সেখানে হানিফ সংকেতের ছবির পাশে তার উপস্থাপনা শৈলীর অনুকরণে ছন্দবদ্ধ কিছু বক্তব্য জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি পোস্টে স্পর্শকাতর রাজনৈতিক মন্তব্যও রয়েছে। এই বিভ্রান্তিকর প্রচারণার ফলে সাধারণ নেটিজেনদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, যা দ্রুত ডিজিটাল স্পেসে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি প্রদান করেন হানিফ সংকেত। তিনি স্পষ্ট জানান, এসব বিভ্রান্তিকর বার্তার সঙ্গে তার বিন্দুমাত্র সম্পৃক্ততা নেই।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারের নিরপেক্ষতা ও প্রশ্নাতীত ভাবমূর্তি বিবৃতিতে হানিফ সংকেত তার দীর্ঘ চার দশকের কর্মজীবনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, "দীর্ঘ চার দশক ধরে আমি কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছাড়াই নিরপেক্ষতা ও স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করছি।" তিনি উল্লেখ করেন যে, তার প্রকৃত বক্তব্য বা উক্তি কেবল তার নিজস্ব Verified Platform এবং স্বীকৃত মূলধারার গণমাধ্যমেই প্রকাশ করা হয়। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর এই স্বার্থান্বেষী তৎপরতা তার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে কালিমালিপ্ত করার অপচেষ্টা মাত্র।
প্রযুক্তির অপব্যবহার ও সচেতনতার অভাব বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে এর অপব্যবহার বা Misuse নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এই নির্মাতা। তিনি জানান, প্রযুক্তির এই যুগে তথ্যের সত্যতা যাচাই বা Fact-check না করেই শেয়ার দেওয়া একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, ব্যবহারকারীরা উৎস যাচাই না করেই লাইক, কমেন্ট ও শেয়ার করছেন, যা পরোক্ষভাবে সাইবার অপরাধীদের উৎসাহিত করছে।
ভক্ত ও সুহৃদদের প্রতি বিশেষ আহ্বান সামাজিক মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে হানিফ সংকেত বলেন, "সত্যতা যাচাই না করে সামাজিক মাধ্যমে কোনো কিছু পোস্ট বা শেয়ার করা শুধু অন্যায় নয়, অপরাধও।" তিনি ডিজিটাল স্বাক্ষরতা বা Digital Literacy-র গুরুত্ব তুলে ধরে জানান, অচেনা বা অখ্যাত উৎস থেকে আসা কোনো তথ্যে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। তিনি তার ভক্তদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ করেন, তারা যেন যেকোনো তথ্য শেয়ার করার আগে এর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হন।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন দেশবরেণ্য এই ব্যক্তিত্ব। সুস্থ সংস্কৃতি এবং বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের প্রচারই পারে এই ধরনের অপপ্রচার রুখে দিতে—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।