নড়াইলে জ্বালানি তেল না পেয়ে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপককে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন ট্রাক চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব যশোরের অধিনায়ক এ টি এম ফজলে রাব্বি বলেন, রোববার বিকাল ৪টা ৩৫ মিনিটে বাঘারপাড়া উপজেলার কিসমত মাহমুদপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে ট্রাক চালক সুজাত আলীকে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যা ৬টায় যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব অধিনায়ক বলেন, এ ঘটনায় জড়িত জহুর নামে আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
ঘটনার বর্ণনায় জানা যায়, নড়াইল-যশোর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত নড়াইলের তানভীর ফিলিং স্টেশনে শনিবার দিবাগত রাতে ট্রাকচালক সুজাত আলী এবং তার সহকারী (হেলপার) জহুর ডিজেল নিতে যান। কিন্তু মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদার তাদের তেল দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হন ট্রাকচালক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ট্রাকচালক প্রকাশ্যে নাহিদকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেন। এর কিছু সময় পর রাত প্রায় ২টার দিকে কাজ শেষে নাহিদ ও তার সহকর্মী জিহাদ মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। ফিলিং স্টেশন থেকে মাত্র ১০০ গজ দূরে পেছন থেকে দ্রুতগতিতে এসে ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলের উপর তুলে দেয়। এতে ঘটনাস্থলে নাহিদ সরদার নিহত হয়। আহত জিহাদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
নাহিদ সর্দার (৩৩) তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের আকরাম সর্দারের ছেলে ও মের্সাস তানভীর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার ও আহত জিহাদুল ইসলাম (২৭) তুলারামপুর গ্রামের জহুরুল মোল্লার ছেলে।
তুলারামপুর হাইওয়ে থানার ওসি সেকেন্দার আলী বলেন, রোববার দুপুরে বেনাপোল থেকে ট্রাকটিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় জব্দ করা হয়েছে।
নড়াইল থানা পুলিশের ওসি মো. ওলি মিয়া বলেন, “পাম্পসহ আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তাতে তেল নিয়ে বিতণ্ডা থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবুও পূর্বের কোনো বিরোধ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এদিকে নাহিদ সরদারকে হত্যার প্রতিবাদে জেলার ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে বলে নড়াইল জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম হিটু জানান।
তিনি বলেন, নাহিদ হত্যার ঘটনায় জেলার ১০টি পাম্প একদিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।