মাঠের লড়াইয়ে নেইমারের জাদুকরী উপস্থিতি নেই, আর তাতেই ছন্দ হারিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। সম্প্রতি এক প্রীতি ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ২-১ গোলে হারের পর সেলেসাও শিবিরে নেইমারের অভাব যখন প্রকট, ঠিক তখনই কোচ কার্লো আনচেলত্তির সিদ্ধান্তের ওপর চড়াও হয়েছেন কিংবদন্তি কোচ হোসে মরিনহো। ব্রাজিলিয়ান এই পোস্টার বয়কে স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়াকে কেবল একটি ‘Tactical Decision’ হিসেবে দেখছেন না মরিনহো; বরং একে নেইমারের প্রতি চরম ‘অসম্মান’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
ফ্রান্সের কাছে হার ও নেইমারের শূন্যতা কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং হুগো একিতিকের গোলে ফ্রান্সের বিপক্ষে লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল। ম্যাচে ২-১ গোলের হার যেন প্রমাণ করে দিল, আক্রমণভাগে একজন সৃজনশীল Playmaker-এর অভাব কতটা তীব্র ছিল। ইনজুরির অজুহাতে নেইমারকে স্কোয়াডের বাইরে রাখার যে ঝুঁকি আনচেলত্তি নিয়েছিলেন, তা কার্যত বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ আনচেলত্তি ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়ার পর নেইমারকে ছাড়াই দল সাজানোর যে ছক কষেছিলেন, তা নিয়ে ফুটবল মহলে এখন সমালোচনার ঝড়।
মেসি-রোনালদোর পাল্লায় নেইমার: মরিনহোর ক্ষোভ ব্রাজিলের এই হারের পর মুখ খুলেছেন ‘স্পেশাল ওয়ান’ খ্যাত হোসে মরিনহো। নেইমারের গুরুত্ব বোঝাতে তিনি লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর উদাহরণ টেনে আনেন। মরিনহো বলেন, “একবার কল্পনা করুন তো, যদি পর্তুগাল তাদের স্কোয়াডে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে না ডাকত, অথবা আর্জেন্টিনা যদি লিওনেল মেসিকে ছাড়াই মাঠে নামার পরিকল্পনা করত! পারস্পরিক বোঝাপড়া ছাড়া নেইমারের মতো একজন বিশ্বমানের তারকাকে জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়া যায় না। এটি তাঁর প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শন ছাড়া আর কিছুই নয়।”
ইনজুরি বনাম কোচিং ফিলোসফি কার্লো আনচেলত্তির দাবি, পেশিতে টান এবং পর্যাপ্ত ‘Match Fitness’ না থাকায় নেইমারকে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য বিবেচনা করা হয়নি। তবে মরিনহো বা ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, নেইমারের মতো একজন অভিজ্ঞ ফুটবলারকে শতভাগ ফিট না থাকলেও অন্তত ড্রেসিংরুমে রাখা বা দলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত ছিল। বিশেষ করে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে (FIFA World Cup 2026) সামনে রেখে দলের আত্মবিশ্বাস ফেরাতে নেইমারের উপস্থিতি ছিল অনস্বীকার্য।
কিংবদন্তি ও সতীর্থদের একাত্মতা কেবল মরিনহোই নন, নেইমারের বাদ পড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোমারিও, রোনালদো নাজারিও এবং কাফুর মতো ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তিরা। বর্তমান ব্রাজিল দলের তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং রদ্রিগো গোয়েসও নেইমারের অন্তর্ভুক্তির পক্ষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। এমনকি গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার ভক্ত ‘নেইমার, নেইমার’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে তুলেছিলেন, যা কোচের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এক নীরব প্রতিবাদ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দৌড়ে কি ফিরবেন নেইমার? আশাবাদী হওয়ার মতো খবর হলো, আনচেলত্তি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াডে নেইমারের ফেরার পথ একেবারে বন্ধ করে দেননি। আগামী ১৯ মে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করা হবে। এর মাঝে নেইমার নিজের ইনজুরি কাটিয়ে উঠতে ও ফিটনেস ফিরে পেতে কিছুটা সময় পাচ্ছেন। এখন প্রশ্ন হলো, মরিনহোর মতো ফুটবল বোদ্ধাদের এই চাপ এবং মাঠের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আনচেলত্তি কি তাঁর জেদ থেকে সরে আসবেন? ফুটবল বিশ্বের কোটি কোটি চোখ এখন ১৯ মে’র সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়।