দিনাজপুর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা শিবলী সাদিকের দ্বিতীয় স্ত্রী খাদিজা মল্লিক সীমু সোমবার রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে হাকিমপুর শহরে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে তিনি বিপুল পরিমাণ ঘুমের ওষুধ সেবন করেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।
ফেসবুকে চাঞ্চল্যকর স্ট্যাটাস
ঘটনার ঠিক আগে বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাস দেন খাদিজা মল্লিক সীমু। সেখানে তিনি তার ৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের মাত্র ২-৩ মাস পর থেকেই তিনি স্বামীর হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন। সীমা তার এই পরিণতির জন্য সরাসরি স্বামী শিবলী সাদিক এবং তার এক কথিত বান্ধবীসহ আরও কয়েকজনকে দায়ী করেছেন।
অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ
খাদিজার অভিযোগ, শিবলী সাদিক এক নারীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। ওই নারীকে বাড়ি করে দেওয়া এবং বিদেশে পালানোর ক্ষেত্রেও সাবেক এমপি সহায়তা করেছেন বলে তিনি দাবি করেন। স্ট্যাটাসে তিনি শিবলী সাদিককে ‘নার্সিসিস্ট’ বা আত্মকেন্দ্রিক মানুষ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, শিবলী কৌশলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পটু। নিজের মেয়ের জীবন নষ্ট করার পেছনেও তিনি স্বামীর দায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
চিকিৎসার বর্তমান অবস্থা
বর্তমানে খাদিজা মল্লিক সীমু দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার পাকস্থলী পরিষ্কার করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল।
উল্লেখ্য, গত জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকেই আওয়ামী লীগ নেতা শিবলী সাদিক আত্মগোপনে রয়েছেন। ২০১১ সালে তিনি জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মৌসুমী আক্তার সালমাকে বিয়ে করেছিলেন, যার বিচ্ছেদ ঘটে ২০১৬ সালে। এরপর ২০১৯ সালে তিনি খাদিজা মল্লিক সীমুকে বিয়ে করেন।