দেশের জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য (Fuel Price Update) নির্ধারণ করতে যাচ্ছে সরকার। বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি: দুশ্চিন্তার অবকাশ নেই
সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের জ্বালানি খাতের বর্তমান চিত্র তুলে ধরেন দপ্তরের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী। তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে জানান যে, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং ভবিষ্যতে সংকটের কোনো আশঙ্কাও দেখা যাচ্ছে না।
মুখপাত্রের দেওয়া তথ্যমতে, ৩০ মার্চ পর্যন্ত সরকারি ভাণ্ডারে ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলের মজুদ (Stock) রয়েছে। এছাড়া দেশের সাপ্লাই চেইন (Supply Chain) স্বাভাবিক রাখতে এপ্রিল মাসে আরও প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির (Import) সমস্ত প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে আসন্ন মাসগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সাধারণ মানুষ বা ব্যবসায়ীদের উদ্বিগ্ণ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি ডিজেল: বিশেষ নজর সরকারের
জ্বালানি বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট জ্বালানি চাহিদার (Fuel Demand) প্রায় ৬৩ শতাংশই হলো ডিজেল। বিশেষ করে কৃষি সেচ ও গণপরিবহন খাতের ওপর ভিত্তি করেই দেশে ডিজেলের এই বিশাল বাজার তৈরি হয়েছে। বর্তমান বোরো মৌসুম এবং পরিবহন ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে ডিজেলের সরবরাহ ও দাম স্বাভাবিক রাখাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার (Top Priority) দিচ্ছে সরকার।
অকটেন ও পেট্রোল ব্যবস্থাপনা
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ডিজেলের তুলনায় দেশে অকটেন ও পেট্রোলের ব্যবহার অনেকটাই সীমিত। এর ফলে এই দুটি জ্বালানি পণ্যের ব্যবস্থাপনা এবং সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলক সহজ হচ্ছে। ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অকটেন ও পেট্রোলের বাজারও স্থিতিশীল রাখতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের এই নতুন মূল্য নির্ধারণ দেশের মুদ্রাস্ফীতি ও পরিবহন ভাড়ার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই সরকারের এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তা সাধারণ। আজ নির্ধারিত হতে যাওয়া এই নতুন দামের ওপর ভিত্তি করেই আগামী মাসের বাজার পরিস্থিতি আবর্তিত হবে।