• আন্তর্জাতিক
  • পারস্য উপসাগরে যুদ্ধের দামামা: দুবাই জলসীমায় কুয়েতি ট্যাংকারে ইরানের ড্রোন হামলা

পারস্য উপসাগরে যুদ্ধের দামামা: দুবাই জলসীমায় কুয়েতি ট্যাংকারে ইরানের ড্রোন হামলা

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
পারস্য উপসাগরে যুদ্ধের দামামা: দুবাই জলসীমায় কুয়েতি ট্যাংকারে ইরানের ড্রোন হামলা

ট্রাম্পের হুমকির পরপরই তেহরানের পাল্টা আঘাত; সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে (Geopolitics) উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাইয়ের অতি গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় কুয়েতের একটি বিশালাকার তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজে ড্রোন হামলা (Drone Attack) চালিয়েছে ইরান। সোমবারের এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN)। এই ঘটনা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাতকে এক নতুন ও ভয়ংকর মাত্রায় নিয়ে গেছে।

ক্ষয়ক্ষতি ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের শঙ্কা

প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোন হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে হামলার শিকার কুয়েতি জাহাজটি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলে পরিপূর্ণ থাকায় বড় ধরনের বিপত্তি দেখা দিয়েছে। ট্যাংকারের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাগরের বিশাল এলাকাজুড়ে তেল ছড়িয়ে পড়ার (Oil Spill) আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা এই অঞ্চলের সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল জাহাজটিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

প্রেক্ষাপট: ট্রাম্পের হুমকি ও খার্গ দ্বীপের সমীকরণ

এই হামলার টাইমিং বা সময় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত ৩১ মার্চ, রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘খার্গ দ্বীপ’ (Kharg Island) দখলের প্রকাশ্য হুমকি দেন। মূলত ইরানের জ্বালানি রপ্তানির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কুয়েতি ট্যাংকারে এই হামলা চালাল তেহরান। উল্লেখ্য, কুয়েত মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ও বিশ্বস্ত মিত্র (US Ally), তাই কুয়েতি জাহাজে আঘাত হানা মূলত ওয়াশিংটনকেই একটি কড়া বার্তা দেওয়া বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অপারেশন এপিক ফিউরি বনাম ইরানের প্রতিরোধ

গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘ ২১ দিনের সংলাপ কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এর পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানে শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury)। একই সাথে ইসরায়েল শুরু করে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ (Operation Roaring Lion)।

অভিযানের শুরুর দিকেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিহতের ঘটনায় ইরান ব্যাকফুটে চলে গেলেও, এখন তারা ‘অপ্রতিসম যুদ্ধের’ (Asymmetric Warfare) মাধ্যমে পাল্টা জবাব দিচ্ছে।

আঞ্চলিক অস্থিরতা ও মিত্র দেশগুলোতে আক্রমণ

যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান কেবল ইসরায়েল নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি উপসাগরীয় দেশ—সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ওমানে অবস্থিত মার্কিন সেনাঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে টার্গেট করে আসছে। দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র (Missile) হামলার মাধ্যমে ইরান প্রমাণ করতে চাইছে যে, তাদের ওপর আক্রমণ হলে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা কাঠামো তছনছ করে দেওয়া হবে।

দুবাইয়ের জলসীমায় আজকের এই হামলা মূলত সেই রণকৌশলেরই একটি অংশ। পারস্য উপসাগরের মতো সংবেদনশীল রুট দিয়ে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ সরবরাহ হয়। এখানে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া মানেই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন গভীর উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন এই ড্রোন হামলার জবাবে কোনো সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেয় কি না।

Tags: dubai oil tanker iran drone