দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেমের (Digital Monitoring System - DMS) আওতায় আনতে বারবার সময় বাড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অধিদপ্তর। সোমবার (৩০ মার্চ) মাউশির ‘মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইং’ (Monitoring and Evaluation Wing) থেকে জারি করা এক জরুরি স্মারকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে বার্ষিক পরিদর্শন ক্যালেন্ডার (Annual Inspection Calendar) আপলোড করার শেষ সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
ডিএমএস অ্যাপ ও জবাবদিহিতার সংকট
শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে মাউশি বেশ আগেই ডিএমএস অ্যাপ (DMS App) চালু করেছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের বিদ্যালয় পরিদর্শনের রুটিন বা ক্যালেন্ডার আগেভাগেই আপলোড করার নিয়ম রয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মকর্তা এখনো এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় অংশ নেননি। স্মারকে বলা হয়েছে, এর আগে কয়েক দফা সময় বাড়ানো হলেও কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ এখনো পরিদর্শন ক্যালেন্ডার আপলোড সম্পন্ন করেননি, যা প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
১২ এপ্রিলের চূড়ান্ত সময়সীমা ও শাস্তির হুঁশিয়ারি
মাউশির জারি করা নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে এই আপলোড প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মাঠ পর্যায়ে সরাসরি পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করতে হবে। অধিদপ্তর সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এরপর আর কোনোভাবেই সময় বাড়ানো হবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই ‘কমপ্লায়েন্স’ (Compliance) নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি অনুযায়ী কঠোর বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (Disciplinary Action) গ্রহণ করা হবে। বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে চিহ্নিত করে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শন কার্যক্রম ও শিক্ষার গুণগত মান
মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষকদের উপস্থিতি তদারকিতে নিয়মিত ‘স্কুল ভিজিট’ বা বিদ্যালয় পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই পরিদর্শনের তথ্য সংরক্ষিত থাকলে কেন্দ্রীয়ভাবে নজরদারি করা সহজ হয়। কর্মকর্তাদের এই গাফিলতির ফলে মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত চিত্র অধিদপ্তরের কাছে অস্পষ্ট থেকে যাচ্ছে, যা শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে।
প্রশাসনিক সংস্কার ও অটোমেশন
মাউশির এই কঠোর অবস্থান মূলত শিক্ষা প্রশাসনের ‘অটোমেশন’ (Automation) এবং কর্মকর্তাদের মধ্যে ‘অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ (Accountability) তৈরির একটি অংশ। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশনের সাথে সংগতি রেখে শিক্ষা খাতে যে আমূল পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে, সেখানে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই স্থবিরতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে অধিদপ্তরের একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
এখন দেখার বিষয়, ১২ এপ্রিলের এই ডেডলাইন (Deadline) কর্মকর্তাদের কতটুকু সক্রিয় করতে পারে। তবে অধিদপ্তরের এই আল্টিমেটাম শিক্ষা ক্যাডার এবং মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের মধ্যে একটি জোরালো সতর্কবার্তা পৌঁছে দিয়েছে।