• ব্যবসায়
  • ‘হামলা ও প্রাণহানির শঙ্কা’ পাম্প মালিকদের, নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি

‘হামলা ও প্রাণহানির শঙ্কা’ পাম্প মালিকদের, নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
‘হামলা ও প্রাণহানির শঙ্কা’ পাম্প মালিকদের, নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি

জ্বালানি তেলের রেশনিং ব্যবস্থা কার্যকর করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল পাম্পগুলোতে নজিরবিহীন হামলার ঘটনা ঘটছে।

উত্তেজিত জনতার হাতে স্টাফদের নির্যাতন ও প্রাণহানির শঙ্কা প্রকাশ করে পেট্রোল পাম্পগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারের এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে এই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত কয়েকদিন ধরে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রতিটি পাম্পে এক ধরনের ‘বিভীষিকাময় ও ভীতিকর’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারের রেশনিং বা তেলের সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ছেন কর্মীরা। অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, অহেতুকভাবে সঠিক তথ্য না জেনে পেট্রোল পাম্পের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমাদের স্টাফরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে। আমরা সরকারের পক্ষ হয়ে দায়িত্ব পালন করছি, কিন্তু বর্তমানে আমাদের জীবন বিপন্ন।

সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ করে দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়। সেখানে তেলের চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে গিয়ে পাম্প মালিকরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। অনেক জায়গায় তেলের দাবিতে পাম্পে ভাঙচুর ও হামলার ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। এই পরিস্থিতিকে ‘বেসামাল’ ও ‘দুর্বিষহ’ বলে আখ্যায়িত করেছে সংগঠনটি।

পাম্পে কর্মরত শ্রমিক এবং মালিকদের জানমালের নিরাপত্তায় সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়:

নিরাপত্তা নিশ্চিত: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সকল পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করতে হবে।

সময়সীমা নির্ধারণ: অস্থিরতা কমাতে তেল বিক্রির সময়সীমা সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্দিষ্ট করতে হবে।

একতরফা দোষারোপ বন্ধ: কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হলে পাম্প মালিকদের ওপর একতরফা দোষ চাপানো যাবে না।

জনসচেতনতা: ক্রেতাদের সচেতন করতে হবে যেন তারা ট্যাংক শূন্য থাকা অবস্থায় পাম্পে হুমড়ি খেয়ে না পড়েন।

ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে মালিকরা বলেন, আমরা সরকার বা কারও প্রতিপক্ষ নই।

বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির কারণে এই সাময়িক সংকট। ব্যক্তিগতভাবে তেল মজুত করতে গিয়ে পাম্পে বিশৃঙ্খলা করবেন না। যদি একজন মোটরসাইকেল চালক তার নির্ধারিত ২ লিটার তেলেই সন্তুষ্ট থাকেন, তবে পেছনের মানুষটিও বাড়িতে ফেরার তেলটুকু পাবেন। সংগঠনটি বলেছে, যদি পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া না হয়, তবে চলমান সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সার্বক্ষণিক নজরদারি ও সহযোগিতা কামনা করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ, সদস্য সাজ্জাদুর রহমান ইমন, সদস্য মিজানুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মিজান প্রধান, যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়া উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হিরন, সদস্য মাসুদ পারভেজ প্রমুখ।

Tags: হামলা শঙ্কা প্রাণহানি পাম্প মালিক নিরাপত্তা নিশ্চিত