• দেশজুড়ে
  • গাইবান্ধায় তীব্র জ্বালানি সংকট: পাম্পে পাম্পে হাহাকার, পেট্রোল মিলছে মাত্র ৫০০ টাকার

গাইবান্ধায় তীব্র জ্বালানি সংকট: পাম্পে পাম্পে হাহাকার, পেট্রোল মিলছে মাত্র ৫০০ টাকার

গাইবান্ধার ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন; বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় ভোগান্তি চরমে।

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
গাইবান্ধায় তীব্র জ্বালানি সংকট: পাম্পে পাম্পে হাহাকার, পেট্রোল মিলছে মাত্র ৫০০ টাকার

গাইবান্ধায় হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জেলার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে মিলছে না পর্যাপ্ত তেল, যার ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য রেশনিং পদ্ধতি চালু করে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল বিক্রি করা হচ্ছে, যা নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

গাইবান্ধা জেলা জুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বিকেলে গাইবান্ধা শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, তেলের অপেক্ষায় মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ সারি। পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি পলাশবাড়ী সড়কের আর রহমান ফিলিং স্টেশনসহ শহরের প্রধান পাম্পগুলোতে দেখা গেছে এক ভিন্ন চিত্র। সেখানে মোটরসাইকেল চালকদের চাহিদা অনুযায়ী তেল দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিটি মোটরসাইকেলের জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার পেট্রোল বরাদ্দ করা হয়েছে। রহমান শেখ নামে একজন বিস্কুট বিক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সারাদিন মোটরসাইকেলে ঘুরে বিস্কুট-পাউরুটির অর্ডার নিতে হয়। প্রতিদিন ৫-৬ লিটার পেট্রোল লাগে, কিন্তু পাম্প থেকে ৫০০ টাকার বেশি দিচ্ছে না। ৫০০ টাকার তেলে কতক্ষণ চলে?"

বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ফিলিং স্টেশন তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় গাইবান্ধা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের মেসার্স রহমান ফিলিং স্টেশনসহ বেশ কয়েকটি পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। তেল না পেয়ে অনেক চালককে হতাশা নিয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে। এমনকি দীর্ঘ লাইন এড়াতে কিছু ব্যবসায়ীকে গ্যারেজ থেকে মোটরবাইকের ট্যাংকি খুলে হাতে করে নিয়ে তেল সংগ্রহের চেষ্টা করতেও দেখা যায়।

সংকটের কারণ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পলাশবাড়ী সড়কের কাদির অ্যান্ড সন্স-এর ব্যবস্থাপক রোকন মিয়া জানান, পাম্পে তেলের মজুদ সীমিত হওয়ায় ভিড় সামলাতে তারা রেশনিং পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে, মেসার্স রহমান ফিলিং স্টেশনের কর্মচারীদের দাবি, উত্তরবঙ্গের প্রধান সরবরাহ কেন্দ্র সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি অয়েল ডিপো থেকে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে এই সংকট তৈরি হয়েছে।

জনমনে আতঙ্ক ও অসুস্থতা জ্বালানি সংকটের এই অস্থিরতার মধ্যে তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে শামসুজ্জোহা নামে এক ব্যক্তি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠান। অনেক চালক অভিযোগ করেছেন, সংকটের আশঙ্কায় অনেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুদ করার চেষ্টা করছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

Tags: bangladesh news energy news gaibandha fuel crisis petrol shortage