কুষ্টিয়ার খোকসায় এক সাধারণ রাজমিস্ত্রির বাড়িতে মিলল দুর্ধর্ষ সব আগ্নেয়াস্ত্রের ভান্ডার। পেশায় তিনি ইট-পাথরের কারিগর হলেও, নিজের ঘরে গড়ে তুলেছিলেন এক গোপন ‘আর্মারি’ বা অস্ত্রাগার। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) গভীর রাতে কুষ্টিয়া সেনা ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেছে পিস্তল, ওয়ান শুটারগান ও দেশীয় অস্ত্র। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হলেও, অভিযানের আগেই চম্পট দিয়েছেন অভিযুক্ত রাজমিস্ত্রি সোহাগ হোসেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ‘সারপ্রাইজ রেইড’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের কলপাড়া গ্রামে দীর্ঘদিন ধরেই অবৈধ অস্ত্রের মজুত থাকার ‘সিক্রেট ইনফরমেশন’ বা গোপন সংবাদ ছিল সেনাবাহিনীর কাছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার রাতে কুষ্টিয়া সেনাক্যাম্পের রেজিমেন্ট আর্টিলারি ইউনিটের একটি চৌকস দল ক্যাপ্টেন মেহেদীর নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে। টার্গেট ছিল রাজমিস্ত্রি সোহাগ হোসেনের বসতবাড়ি। নিস্তব্ধ রাতে সেনাবাহিনীর গাড়ি গ্রামে ঢুকতেই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রাজমিস্ত্রির ঘরে মিলল যা যা
সেনাবাহিনীর সদস্যরা সোহাগের বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশি বা ‘সার্চ অপারেশন’ চালায়। এ সময় তার ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটারগান, তিন রাউন্ড তাজা গুলি। শুধু আগ্নেয়াস্ত্রই নয়, উদ্ধারকৃত তালিকার বা ‘সিজার লিস্ট’-এর মধ্যে রয়েছে দেশীয় ধারালো চাকু ও হাসুয়া। একজন সাধারণ রাজমিস্ত্রির ঘরে এত ভারী অস্ত্রের মজুত দেখে হতবাক স্থানীয়রাও। সোহাগ হোসেন ওই গ্রামের আশরাফ হোসেনের ছেলে।
পলাতক মূল হোতা, পুলিশের প্রস্তুতি
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় খোকসা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সেনাবাহিনীর এই ঝটিকা অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার বা ‘রিকভারি’ সম্ভব হলেও, কাউকে আটক করা যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, টের পেয়ে আগেই সটকে পড়েছেন অভিযুক্ত সোহাগ।
উদ্ধাকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পুলিশের জিম্মায় বা ‘পুলিশ কাস্টডি’-তে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি বা ‘কেস প্রিপারেশন’ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পলাতক সোহাগকে গ্রেপ্তারে শীঘ্রই সাঁড়াশি অভিযান শুরু হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।