• রাজনীতি
  • হাদি হত্যা: খুনিদের সীমান্ত পার করান যুবলীগের ২ নেতা, দিতে হলো ৫ হাজার টাকা

হাদি হত্যা: খুনিদের সীমান্ত পার করান যুবলীগের ২ নেতা, দিতে হলো ৫ হাজার টাকা

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির খুনিদের দেশ থেকে পালাতে সাহায্য করেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও তার ভগ্নিপতি।

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
হাদি হত্যা: খুনিদের সীমান্ত পার করান যুবলীগের ২ নেতা, দিতে হলো ৫ হাজার টাকা

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করার পর খুনিদের নিরাপদে সীমান্ত পার করে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত নেটওয়ার্কের তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তদন্তে জানা যায়, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পী এবং তার ভগ্নিপতি আমিনুল ইসলাম এই পালানোর ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ নিয়ে মোট ১১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

খুনিদের পালানো ছিল পূর্বপরিকল্পিত তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হাদি হত্যাকাণ্ডের পরপরই প্রধান শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর শেখকে সীমান্ত পার করানোর বিষয়টি আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল। ফয়সাল ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এবং আলমগীর আদাবর থানা যুবলীগের কর্মী। ঘটনার রাতেই ফয়সাল ও আলমগীর ঢাকা ত্যাগ করেন এবং একাধিক যানবাহন পরিবর্তন করে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্তে পৌঁছান।

ভারত থেকে নির্দেশনা দেন যুবলীগ নেতা তাইজুল তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হালুয়াঘাট সীমান্ত থেকেই তারা অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যান। এই সীমান্ত পারাপারের পুরো ব্যবস্থাটি সমন্বয় করেন যুবলীগ নেতা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পী। তিনি তখন নিজে ভারতে অবস্থান করলেও দূর থেকেই সব নির্দেশনা দেন।

৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সীমান্ত পার তদন্তে আরও জানা যায়, হালুয়াঘাট সীমান্ত এলাকায় টাকার বিনিময়ে অবৈধ পারাপারের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন দালাল সক্রিয় রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন হলো ফিলিপ স্নাল, যার বাড়ি সীমান্তসংলগ্ন ভুটিয়াপাড়া গ্রামে। শহীদ হাদিকে গুলি করার কিছুক্ষণ পরই তাইজুল ভারত থেকে তার ভগ্নিপতি আমিনুলকে ফোন করে জানান যে, তিনি ফিলিপের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। তখন আমিনুলকে দ্রুত ফিলিপের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই রাতেই দুই ব্যক্তিকে সীমান্ত পার করানোর বার্তা পৌঁছে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। আমিনুল ফিলিপের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে তাইজুলকে নিশ্চিত করেন। এরপর তাইজুলের নির্দেশে আমিনুল তাৎক্ষণিকভাবে দালাল ফিলিপকে ৫ হাজার টাকা পাঠান। সেই অর্থের বিনিময়েই ফয়সাল ও আলমগীরকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করানো হয়।

দুই নেতার পরিচয় ও গ্রেপ্তার খুনিদের পালানোর ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকা তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পী ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর। আর তাকে সহযোগিতা করেন তার ভগ্নিপতি আমিনুল ইসলাম। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ইতোমধ্যে আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশ ও র‍্যাবের হাতে মোট ১১ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

Tags: politics smuggling youth league hadi killing bangladesh border taijul islam chowdhury aminul islam