কিংবদন্তি অভিনেতা কমল হাসান এবং অভিনেত্রী সারিকার কন্যা হওয়ায় শ্রুতি হাসানের চলচ্চিত্রজগতে পা রাখা খুব একটা কঠিন ছিল না। তবে নিজের কর্মজীবন ও পরিচিতি তিনি গড়ে তুলেছেন স্বীয় প্রতিভার জোরে। আজ তাঁর জন্মদিন। এই উপলক্ষে দেখে নেওয়া যাক কমলকন্যা শ্রুতি হাসান সম্পর্কে জানা-অজানা কিছু তথ্য।
পারিবারিক প্রেক্ষাপট ও শৈশবের শুরু
১৯৮৬ সালের ২৮ জানুয়ারি ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের চেন্নাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন শ্রুতি হাসান। অভিনয়ের মতো সংগীতও তাঁর রক্তে প্রবাহিত। মাত্র ছয় বছর বয়সে বাবার একটি তামিল ছবিতে গান গেয়ে তাঁর সংগীতশিল্পী হিসেবে অভিষেক ঘটে। যদিও বাবা কমল হাসানের ইচ্ছা ছিল, মেয়ে বড় হয়ে সংগীতশিল্পী হোক। তবে শ্রুতি এখন অভিনয় জগতেই থিতু। তাঁর এক বোনও রয়েছে, নাম অক্ষরা হাসান।
কেন 'পূজা রামচন্দ্রন' ছিলেন শ্রুতি?
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, স্কুলে পড়াকালে নিজের আসল পরিচয় প্রকাশ করতে চাইতেন না শ্রুতি। তিনি যে জনপ্রিয় পরিবারের সন্তান, সে কথা গোপন রাখতে তিনি নিজের ভুয়া নাম ব্যবহার করতেন। স্কুলে তিনি 'পূজা রামচন্দ্রন' নাম ব্যবহার করতেন। তিনি যে কমল হাসানের মেয়ে, এই বিষয়টি আড়াল করাই ছিল এর মূল কারণ।
অভিনয় ও সংগীতের সফর
গায়িকা হিসেবে অভিষেক হলেও শ্রুতির অভিনয় জগতে হাতেখড়ি হয় ছোটবেলাতেই। ২০০০ সালে কমল হাসানের ‘হে রাম’ ছবিতে ছোট্ট একটি চরিত্রে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। আপাতত দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রথম সারির নায়িকাদের মধ্যে শ্রুতি অন্যতম। অভিনয়ের পাশাপাশি সুরকার হিসেবেও তিনি পরিচিত। বাবার প্রযোজিত বেশ কিছু প্রোজেক্টে তিনি সুর দিয়েছেন। জনপ্রিয় অ্যানিমেশন ছবি ‘ফ্রোজেন’-এ তিনি কণ্ঠও দিয়েছেন।
পড়াশোনা ও জীবনের দর্শন
অভিনয়ের সঙ্গে পড়াশোনাও চালিয়ে গেছেন শ্রুতি হাসান। তিনি সাইকোলজি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। নতুন কিছু শেখা—এই মন্ত্র পড়েই তাঁর দিন শুরু হয়। দক্ষিণ ভারতীয় এই অভিনেত্রীর কাছে জনপ্রিয় হওয়ার তাগিদ অতটা নেই। বরং অজানাকে জানার মধ্যেই তাঁর বেশি আনন্দ।
'অহংকারী' অপবাদ ও খোলা মনের কথা
কমল হাসানের মেয়ে হওয়ার কারণে তাঁকে শুরুর দিকে অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। শ্রুতি জানান, তাঁর নামের সঙ্গে 'অহংকারী' বিশেষণটা জুড়ে গিয়েছিল। অভিনেত্রী বলেন, 'শুরুর দিকে অনেকে আমাকে অহংকারী বলত। আসলে আমি কখনোই তা ছিলাম না। আমি তখন আমার নিজস্ব নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতাম। আর আমাকে এক অদ্ভুত ভয় তাড়া করত।'
গান হোক বা অভিনয়—শ্রুতি সব ক্ষেত্রে নিজের মতামত খোলাখুলি রাখতে ভালোবাসেন। তিনি বলেন, কর্মজীবন শুরুর সময় তাঁর সহ-অভিনেতা থেকে ম্যানেজার সবাই তাঁকে সাবধান করেছিলেন যে স্পষ্ট মতামত জানালে আগামী দিনে কাজ পেতে সমস্যা হবে। কিন্তু তিনি নিজেকে বদলাতে পারেননি। তিনি এ ব্যাপারে এখনো খোলামেলা।
মিউজিক ভিডিও এবং ব্যক্তিগত আগ্রহ
সম্প্রতি তাঁর মিউজিক ভিডিও ‘মনস্টার মেশিন’ রীতিমতো সাড়া ফেলেছিল। গানটি প্রসঙ্গে শ্রুতি বলেন, 'আমি আমার এই গানের মাধ্যমে সব রকম অন্ধকার দিক প্রকাশ করেছি। আর এটা এমনই এক গান, যা আমি অন্তর থেকে অনুভব করি।' জুতার প্রতি তাঁর ভালো লাগা রয়েছে। নানা স্টাইলের জুতা পরতে পছন্দ করেন এবং তাঁর জুতার সংগ্রহ দেখার মতো। মায়ের সঙ্গে তাঁর খুব ভালো সম্পর্ক, যদিও শোনা যায় একবার কোনো সমস্যার কারণে বেশ কিছুদিন তিনি মায়ের সঙ্গে কথা বলেননি।