আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ (T20 World Cup) শুরুর আগেই ক্রিকেট বিশ্বে বইছে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া। একদিকে পাকিস্তান তাদের স্কোয়াড ঘোষণা করে প্রস্তুতি সারছে, অন্যদিকে টুর্নামেন্টে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম ধোঁয়াশা। বিশেষ করে বাংলাদেশ ইস্যুতে সংহতি জানিয়ে পাকিস্তান এই মেগা ইভেন্ট বয়কট (Boycott) করতে পারে—এমন গুঞ্জনে যখন তোলপাড় ক্রীড়াঙ্গন, ঠিক তখনই সামনে এলো এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম 'জিএনএন' (GNN) দাবি করেছে, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC) নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জয় শাহ অন্তত আটবার পিসিবি (PCB) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভিকে ফোন করেছেন। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হলো, সেই ফোনকলের একবারও জবাব দেননি নাকভি। আইসিসি প্রধানের মতো শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তার কল এভাবে উপেক্ষা করা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কূটনীতিতে (Cricket Diplomacy) নজিরবিহীন এক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফোন ধরেননি নাকভি: নেপথ্যে কী?
পিসিবি সূত্রের খবর অনুযায়ী, জয় শাহ ও মহসিন নাকভির মধ্যেকার এই শীতল যুদ্ধের মূলে রয়েছে বাংলাদেশ এবং আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা। বর্তমানে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক (Geopolitics) প্রেক্ষাপটে ক্রিকেট প্রশাসন এখন আর স্বাধীন নয়; বরং এটি এখন রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। জয় শাহের ফোন না ধরার মাধ্যমে মহসিন নাকভি সম্ভবত একটি কড়া বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্তে অটল এবং কোনো ধরনের চাপে নতি স্বীকার করবে না।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কি প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে?
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। বৈঠক শেষে তিনি জানান, বিশ্বকাপ এবং বাংলাদেশ ইস্যুতে পাকিস্তানের চূড়ান্ত অবস্থান আগামী ৩০ জানুয়ারি অথবা ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জানানো হবে। তবে জিএনএন-এর দাবি, আগামীকাল শুক্রবারই পাকিস্তান তাদের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারে। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই ঘোষণা পিসিবি থেকে নয়, বরং খোদ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আসতে পারে। এতেই স্পষ্ট যে, পাকিস্তানের জন্য এটি এখন আর কেবল একটি ক্রিকেটীয় সফর নয়, বরং জাতীয় মর্যাদার লড়াই।
বাংলাদেশে আসতে পারেন মহসিন নাকভি
এদিকে, ক্রিকেটীয় সম্পর্কের বাইরেও বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশের গুঞ্জন জোরালো হচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, মহসিন নাকভি খুব শীঘ্রই বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন। উল্লেখ্য, তিনি কেবল পিসিবি চেয়ারম্যান নন, একইসঙ্গে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও (Interior Minister)। তার এই সম্ভাব্য সফর ক্রিকেটীয় গণ্ডি ছাড়িয়ে উচ্চতর কূটনৈতিক তাৎপর্য বহন করতে পারে। মূলত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সংকটে পাশে দাঁড়ানো এবং যৌথভাবে আইসিসির ওপর চাপ সৃষ্টি করাই হতে পারে এই সফরের মূল উদ্দেশ্য।
বিপাকে আইসিসি ও ব্রডকাস্টিং রাইটস
পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ বয়কটের পথে হাঁটে, তবে তা আইসিসির জন্য হবে এক বিরাট বিপর্যয়। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হওয়া মানে টুর্নামেন্টের 'Market Value' কয়েকগুণ কমে যাওয়া। 'Broadcasting Rights' এবং বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলোর জন্য এটি হবে কোটি কোটি ডলারের লোকসান। জয় শাহ সম্ভবত এই আর্থিক ও প্রশাসনিক ঝুঁকি এড়াতেই বারবার নাকভির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন, যা এখন পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে।
আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান কি সত্যিই বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে সরে দাঁড়াবে, নাকি এটি ভারতের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক চাল (Diplomatic Move)—তা জানতে বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।