ইউরোপিয়ান ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে রিয়াল মাদ্রিদ মানেই অদম্য লড়াই আর শেষ মুহূর্তের প্রত্যাবর্তনের গল্প। কিন্তু মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে লিসবনের আলোয় দেখা গেল এক অচেনা রিয়ালকে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের (Champions League) গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বেনফিকার কাছে ৪-২ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফরাসি এই ফরোয়ার্ডের মতে, মাঠের কৌশলের চেয়েও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের ফুটবলারদের জয়ের 'ক্ষুধা' ও মানসিকতায় ঘাটতি।
ম্যাচ শেষে এমবাপ্পের বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া
নিজে জোড়া গোল (Brace) করেও দলকে জেতাতে না পারার আক্ষেপ এমবাপ্পের কণ্ঠে স্পষ্ট। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি সতীর্থদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "এটা কোনো টেকনিক্যাল বা কৌশলগত (Tactics) পরাজয় নয়। মূল সমস্যাটা হলো মানসিকতার। মাঠের লড়াইয়ে জেতার জন্য যে ক্ষুধা থাকা দরকার, বেনফিকার ফুটবলারদের মধ্যে তা পূর্ণমাত্রায় ছিল। কিন্তু আমাদের মধ্যে সেই তাড়না খুঁজে পাওয়া যায়নি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো বড় আসরে লড়াই করার মানসিকতা না থাকলে জয় পাওয়া অসম্ভব।"
জাবি আলোনসো পরবর্তী শূন্যতা ও আরবেলোয়া যুগ
চলতি মৌসুমে মাঠ এবং মাঠের বাইরে বেশ অস্থির সময় পার করছে রিয়াল মাদ্রিদ। গত মৌসুমে অভাবনীয় সাফল্য এনে দেওয়া কোচ জাবি আলোনসোর বিদায়ের পর থেকেই স্প্যানিশ জায়ান্টদের অন্দরমহলে এক ধরণের অস্থিরতা বিরাজ করছে। নতুন কোচ আলভারো আরবেলোয়ার অধীনে দল টানা তিন ম্যাচে জয় পেলেও বেনফিকার বিপক্ষে এই পরাজয় রিয়ালের বর্তমান দুর্বলতাগুলোকে আবারও প্রকাশ্যে এনেছে। বিশেষ করে দুই সপ্তাহ আগে স্প্যানিশ কাপের (Copa del Rey) শেষ ১৬-তে দ্বিতীয় বিভাগের দল আলবাসেতের কাছে হার ছিল ক্লাবটির ঐতিহ্যের জন্য এক বড় চপেটাঘাত।
ধারাবাহিকতাহীন পারফরম্যান্স ও শীর্ষ পদের লড়াই
দলের ফর্ম এবং ধারাবাহিকতা (Consistency) নিয়ে এমবাপ্পে বেশ কড়া সুরেই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, "আমরা আমাদের পারফরম্যান্সে স্থিতিশীল হতে পারছি না। একদিন আমরা অসাধারণ ফুটবল খেলছি, আর পরের দিনই ছন্দ হারিয়ে ফেলছি। রিয়াল মাদ্রিদের মতো একটি চ্যাম্পিয়ন দলের ডিএনএ-তে (DNA) এমন ধারাবাহিকতাহীনতা থাকা কাম্য নয়।"
বর্তমানে লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ আগামী রোববার ঘরের মাঠে রায়ো ভায়েকানোর মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচের মাধ্যমেই নিজেদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া এবং সমালোচকদের মুখ বন্ধ করাই এখন আরবেলোয়ার শিষ্যদের মূল চ্যালেঞ্জ। ইউরোপের সফলতম ক্লাবটি কি পারবে এমবাপ্পের ধরিয়ে দেওয়া ভুলগুলো শুধরে আবারও স্বরূপে ফিরতে? উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই।