অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের নীল গালিচায় আরিনা সাবালেঙ্কার একচ্ছত্র আধিপত্য যেন অপ্রতিরোধ্য এক মহাকাব্যে পরিণত হয়েছে। মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারেনায় আরও একবার নিজের শক্তির মহড়া দিলেন এই বেলারুশিয়ান পাওয়ার হিটার। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) নারী এককের হাই-ভোল্টেজ সেমিফাইনালে ইউক্রেনের এলিনা সভিতোলিনাকে স্ট্রেট সেটে পরাজিত করে টানা চতুর্থবারের মতো টুর্নামেন্টের ফাইনালে পা রাখলেন সাবালেঙ্কা। এই জয়ের মাধ্যমেই তিনি স্পর্শ করলেন টেনিস ইতিহাসের ২৪ বছরের পুরনো এক বিরল কীর্তি।
রড লেভার অ্যারেনায় সাবালেঙ্কার অপ্রতিরোধ্য যাত্রা
এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই সভিতোলিনাকে চাপে রাখেন টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট সাবালেঙ্কা। হার্ড কোর্টে (Hard Court) নিজের পরিচিত বিধ্বংসী সার্ভিস এবং শক্তিশালী ফোরহ্যান্ডের পসরা সাজিয়ে বসেন তিনি। প্রথম সেটে সভিতোলিনাকে দাঁড়াতেই দেননি সাবালেঙ্কা, জয় তুলে নেন ৬-২ ব্যবধানে। দ্বিতীয় সেটে কিছুটা লড়াইয়ের আভাস দিলেও বেলারুশিয়ান তারকার আগ্রাসী মেজাজের সামনে হার মানতে বাধ্য হন ইউক্রেনীয় তারকা। শেষ পর্যন্ত ৬-৩ ব্যবধানে দ্বিতীয় সেট ও ম্যাচ জিতে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন তিনি।
মার্টিনা হিগিন্সের ২৪ বছরের রেকর্ডে ভাগ
টানা চতুর্থবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে উঠে সাবালেঙ্কা ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম খোদাই করেছেন। গ্র্যান্ড স্ল্যাম (Grand Slam) ইতিহাসের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, মেলবোর্নের এই আসরে শেষবার টানা চার বা তার বেশিবার ফাইনাল খেলার রেকর্ড ছিল কিংবদন্তি মার্টিনা হিগিন্সের। সুইস তারকা হিগিন্স টানা ছয়বার ফাইনাল খেলেছিলেন, যার শেষটি ছিল ২০০২ সালে। দীর্ঘ ২৪ বছর পর কোনো নারী খেলোয়াড় হিসেবে হিগিন্সের সেই ধারাবাহিকতার রেকর্ডে ভাগ বসালেন সাবালেঙ্কা। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে শিরোপা জিতলেও ২০২৫ সালের ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাডিসন কীসের কাছে পরাজিত হয়ে রানার্স-আপ হয়েছিলেন তিনি। এবার তাঁর সামনে সুযোগ তৃতীয়বারের মতো ট্রফি হাতে তোলার।
ফাইনালে পুরনো প্রতিপক্ষ: রায়বাকিনা বনাম সাবালেঙ্কা
আগামী শনিবারের মেগা ফাইনালে সাবালেঙ্কার প্রতিপক্ষ কাজাখস্তানের টেনিস সেনসেশন এলেনা রায়বাকিনা। দিনের অন্য সেমিফাইনালে রায়বাকিনা যুক্তরাষ্ট্রের জেসিকা পেগুলাকে ৫-৩ ও ৭-৬ (৯-৭) ব্যবধানে পরাজিত করে ফাইনালে জায়গা করে নেন। উল্লেখ্য, এটি রায়বাকিনার দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ফাইনাল। ২০২৩ সালের সেই রোমাঞ্চকর ফাইনালে সাবালেঙ্কার কাছে হেরেই স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল তাঁর। ফলে এবারের ফাইনালটি রায়বাকিনার জন্য যেমন প্রতিশোধের মঞ্চ, সাবালেঙ্কার জন্য তেমনি নিজের সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের লড়াই।
আগামী শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটায় টেনিস বিশ্বের নজর থাকবে মেলবোর্ন পার্কে। সাবালেঙ্কা কি পারবেন তাঁর ২৪ বছরের রেকর্ডকে শিরোপা দিয়ে রাঙাতে, নাকি রায়বাকিনা নতুন ইতিহাস লিখবেন? উত্তরের অপেক্ষায় এখন গোটা ক্রীড়াবিশ্ব।