বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির নিয়ন্ত্রণ কক্ষ বলে পরিচিত মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’-এ বড় ধরনের পরিবর্তনের ডাক দিলেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। বর্তমান চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের স্থলাভিষিক্ত করতে তিনি বেছে নিয়েছেন অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদ এবং ফেড-এর সাবেক গভর্নর কেভিন ওয়ার্শকে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে এই মনোনয়নের কথা জানান।
ট্রাম্পের আস্থা ও প্রত্যাশা
ফেডারেল রিজার্ভের ১৭তম চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ার্শের নাম ঘোষণা করে ডনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ‘দীর্ঘদিনের পরিচিত এবং অত্যন্ত দক্ষ ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্প তাঁর বার্তায় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ওয়ার্শ মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম সেরা ‘Fed Chair’ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করবেন। মূলত মার্কিন অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ওয়ার্শের দূরদর্শী নেতৃত্বকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন ট্রাম্প।
কে এই কেভিন ওয়ার্শ?
৫৫ বছর বয়সী কেভিন ওয়ার্শ বর্তমানে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির খ্যাতনামা ‘Hoover Institution’-এ ভিজিটিং ফেলো হিসেবে কর্মরত। তবে নীতিনির্ধারক হিসেবে তাঁর পথচলা বেশ দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য। ২০০৬ সালে মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ফেডারেল রিজার্ভের সর্বকনিষ্ঠ গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি টেনিস ও অর্থনীতি পাড়ায় ইতিহাস গড়েছিলেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের সময় হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিবিদ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
সংকট মোকাবিলায় বিশেষ পরিচিতি
ওয়ার্শের ক্যারিয়ারের অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায় ছিল ২০০৮ সালের ‘Global Financial Crisis’ বা বৈশ্বিক আর্থিক মন্দা মোকাবিলা। তৎকালীন সময়ে আর্থিক বাজারের তারল্য সংকট এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে তিনি পর্দার আড়ালে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর সেই ‘Crisis Management’ দক্ষতা এবং ‘Market Stability’ বজায় রাখার কৌশল ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পাওয়েলের বিদায় ও নতুন জমানা
বর্তমান চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের মে মাসে। পাওয়েলের সঙ্গে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক পলিসি নিয়ে অতীতে বিভিন্ন সময় মতবিরোধ দেখা গেছে। তাই নতুন প্রশাসনে ট্রাম্প এমন কাউকে খুঁজছিলেন যিনি তাঁর অর্থনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করতে পারবেন। মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর ওয়ার্শকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার সমন্বয় এবং মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক অবস্থান সুসংহত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হবে।
এই মনোনয়নের মাধ্যমে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে এক নতুন জমানার সূচনা হতে যাচ্ছে, যার প্রভাব অনুভূত হবে বিশ্ব শেয়ার বাজার থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায়।