কুয়েতের তপ্ত মরুভূমিতে ব্যাট-বলের লড়াইয়ে এশীয় পরাশক্তিদের হারিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরল প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্রিকেট দল। কুয়েতে আয়োজিত ‘সামার লীগ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৫’-এ পাকিস্তান, আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মতো দেশগুলোকে পেছনে ফেলে শিরোপা জিতেছে ‘বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস স্পোর্টিং ক্লাব’। এই বিজয়ের মাধ্যমে প্রবাসীরা আবারও প্রমাণ করলেন, তারা কেবল রেমিটেন্স যোদ্ধাই নন, বিদেশের মাটিতে দেশের সম্মান ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেও সমান পারদর্শী।
মরুর বুকে ১০ দলের ক্রিকেট মহাযজ্ঞ
বাংলাদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন কুয়েতের (BCA Kuwait) উদ্যোগে গত তিন মাস ধরে চলেছে এই মেগা টুর্নামেন্ট। এতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মোট ১০টি শক্তিশালী ক্লাব অংশগ্রহণ করে। দলগুলোর মধ্যে ছিল গুজরাট ক্রিকেট ক্লাব, জে.কে. ওয়ারিয়র্স, আলফা ক্রিকেট ক্লাব, গাল্ফ ক্যাভাল, জিলিব প্রবাসী ক্লাব, শাহা জি ইলেভেন, বেঙ্গল অ্যাভেঞ্জারস, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স, বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস স্পোর্টিং ক্লাব এবং জেলিব নাইট রাইডার্স। আয়োজনের মুন্সিয়ানা দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া বিদেশি খেলোয়াড়রাও।
ফাইনালের রোমাঞ্চ ও সোহাগ জাসিমের বীরত্ব
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) কুয়েতের আল রাই ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (Al Rai Cricket Ground) অনুষ্ঠিত হয় টুর্নামেন্টের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল। টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় জেলিব নাইট রাইডার্স। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে তারা ১৯৪ রানের এক পাহাড়সম সংগ্রহ দাঁড় করায়।
১৯৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিছুটা ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস স্পোর্টিং ক্লাব। তবে খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেন দলের অন্যতম সেরা ব্যাটার সোহাগ জাসিম। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে প্রতিপক্ষের বোলাররা। মাত্র ৩৬ বলে ৮০ রানের একটি অসাধারণ ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। তার এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে ১৮.১ ওভারে ৩ উইকেটের জয় পায় বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস স্পোর্টিং ক্লাব। অনবদ্য এই ইনিংসের জন্য সোহাগ জাসিমকে ‘ম্যান অব দ্য ম্যাচ’ (Man of the Match) নির্বাচিত করা হয়।
পুরস্কার বিতরণী ও সম্প্রীতির বার্তা
খেলা শেষে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি (Trophy) ও প্রাইজমানি (Prize Money) তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. সোহরাওয়ার্দী এবং সঞ্চালনায় ছিলেন ইসমাইল সোবহান ও আতিউরজ্জামান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টুর্নামেন্ট উপদেষ্টা মো. মাইন উদ্দিন। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মীর মোশাররফ হোসেন, মঈন উদ্দিন সরকার সুমন, আক্তার উজ্জামান মোহাম্মদ শামসসহ আরও অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি।
দেশের ভাবমূর্তি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রধান অতিথি মো. মাইন উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, “এই আয়োজন প্রমাণ করে যে, বিদেশের মাটিতেও খেলাধুলার মাধ্যমে আমাদের দেশপ্রেম অটুট রয়েছে। প্রবাসীদের এমন উদ্যোগ কেবল শরীরচর্চাই নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করে।” আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রবাসীদের যথাযথ সহযোগিতা ও স্পন্সরশিপ পেলে ভবিষ্যতে কুয়েতের মাটিতে আরও বৃহৎ পরিসরে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা সম্ভব হবে। ক্রীড়াঙ্গনের এই সাফল্য কুয়েতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে নতুন এক উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।