ভারতে ‘নিপাহ ভাইরাস’ (Nipah Virus)-এর প্রাদুর্ভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বইছে উদ্বেগের ঝড়। তবে এই উদ্বেগ ও আতঙ্ককে পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। ভারতের দাবি, আসন্ন মেগা ইভেন্ট তথা বিশ্বকাপ আয়োজনকে বাধাগ্রস্ত করতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মিথ্যা তথ্য বা ‘Fake News’ ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছে, তা উড়িয়ে দিয়ে বিসিসিআই স্পষ্ট জানিয়েছে, ক্রিকেটারদের সুরক্ষায় কোনো আপস করা হচ্ছে না।
বিসিসিআই-এর কঠোর অবস্থান ও প্রোপাগান্ডার অভিযোগ
সম্প্রতি কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে, নিপাহ ভাইরাসের (Nipah Virus Outbreak) আশঙ্কায় ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া ভারতে সফর করতে অনীহা প্রকাশ করেছে। এই খবরের পরপরই নড়েচড়ে বসেছে ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসন। বিসিসিআই-এর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই ধরনের খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার দাবি, ভারত সফরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিশ্বকাপে ব্যাঘাত ঘটাতেই প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে পাকিস্তান এবং নিরাপত্তা অজুহাতে বাংলাদেশের নাম জড়িয়ে এই বিতর্ক এখন নতুন মোড় নিয়েছে।
ইডেন গার্ডেন্সে কি ম্যাচ হবে?
নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র হিসেবে কলকাতার নাম উঠে আসায় ক্রিকেট মহলে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল—সেখান থেকে কি ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া হবে? এর জবাবে বিসিসিআই কর্মকর্তা সাফ জানিয়েছেন, “কলকাতা থেকে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। সেখানকার পরিবেশ সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্বাভাবিক। সরকার বা রাজ্য কর্তৃপক্ষ (State Authorities) থেকে কোনো ভিন্ন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই খেলা চলবে।” ক্রিকেটারদের জন্য ‘Bio-Secure Bubble’ বা উন্নত স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রটোকল নিশ্চিত করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
বিবিসি-র প্রতিবেদন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগ
বিসিসিআই কর্মকর্তাদের বক্তব্যে আশ্বাসের সুর থাকলেও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ভিন্ন কথা বলছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি-র (BBC) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিপাহ ভাইরাসের পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, নিপাহ ভাইরাস বিশ্বের দশটি মরণঘাতী রোগের অন্যতম। এর মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি হওয়ায় যেকোনো প্রাদুর্ভাবকে ‘Global Health Risk’ হিসেবে দেখা হয়। ভারতের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, তারা ল্যাব টেস্ট এবং মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধান (Field Investigation) জোরদার করেছে। পরিস্থিতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে যাতে কোনোভাবেই এটি মহামারীর রূপ না নেয়।
সফরে কি আসবে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া?
নিপাহ ভাইরাস ইস্যুকে কেন্দ্র করে এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ভারত সফর। যদিও বিসিসিআই দাবি করছে এটি একটি সাজানো রটনা, তবে বড় দলগুলো সাধারণত তাদের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না। যদি এই দেশগুলো ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে শতভাগ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না পায়, তবে সূচিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের এই ‘তথ্য যুদ্ধ’ (Information War) ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন ভারতের দিকে নিবদ্ধ করেছে। শেষ পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসের এই আতঙ্ক কাটিয়ে সফলভাবে বড় আসর আয়োজন করা ভারতের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ।