মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তাল ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইরান কোনোভাবেই দুর্বল নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির সংসদের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবাই। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেছেন, ইরান কেবল সীমিত সামরিক হামলা বা কয়েকজন উচ্চপদস্থ কমান্ডারের শাহাদাতে পরাস্ত হওয়ার মতো দেশ নয়। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) তেহরানে এক বক্তব্যে তিনি দেশের বর্তমান সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান তুলে ধরেন।
বিকল্প নেতৃত্ব ও অভিন্ন লক্ষ্য
হামিদরেজা হাজিবাবাই স্পষ্ট করে বলেন, যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তেহরানের কাছে সবসময় ‘Alternative’ বা বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত থাকে। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদের বিপরীতে যোগ্য উত্তরসূরি তৈরি রাখা হয়েছে, যাতে কোনো নেতার অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় বা সামরিক কার্যক্রমে স্থবিরতা না আসে। তার মতে, ইরানের সংসদ, সরকার এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে একটি শক্তিশালী ও নিশ্ছিদ্র ঐক্য বজায় রয়েছে, যা যেকোনো বহিঃশত্রুর মোকাবিলায় প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।
অভ্যন্তরীণ সমালোচনা ও জাতীয় নিরাপত্তা
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকলেও তা শত্রু রাষ্ট্রগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি বলেন, "আমাদের মধ্যে সমালোচনা বা মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে তা বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আলোচনা করা হয়। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এমন কোনো ক্ষেত্র আমরা উন্মুক্ত রাখি না যা শত্রুপক্ষ তাদের স্বার্থে কাজে লাগাতে পারে।"
অর্থনৈতিক সংকট: সম্পদ নয়, সমস্যা ব্যবস্থাপনায়
বক্তব্যে ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন হাজিবাবাই। তার মতে, ইরানের মূল সমস্যা ‘Resource Scarcity’ বা সম্পদের ঘাটতি নয়, বরং ‘Management’ বা ব্যবস্থাপনা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের দুর্বলতা। এই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে আগামী বছরের বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, আগামী বছরের ‘Budget’ পরিকল্পনায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বেতন বৃদ্ধি, করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য বিশেষ ভর্তুকি বা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের ওপর থেকে জীবনযাত্রার ব্যয় বা ‘Cost of Living’-এর চাপ কমিয়ে আনা।
তথ্যযুদ্ধ ও নতুন বিশ্বব্যবস্থা
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হচ্ছে উল্লেখ করে হাজিবাবাই বলেন, বিশ্ব এখন একটি ‘Multipolar World Order’ বা বহুমেরুকেন্দ্রিক ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। যেখানে একক কোনো পরাশক্তির আধিপত্য আর কার্যকর নয়। এই নতুন বাস্তবতায় ইরানের প্রধান লড়াই এখন ‘Information Warfare’ বা সংবাদ ও অনলাইন পরিসরে।
তিনি সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জনমনে আতঙ্ক, হতাশা বা বিভাজন সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো মন্তব্য থেকে তাদের বিরত থাকতে হবে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে জয়ী হওয়া সামরিক বিজয়ের মতোই গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল