বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অন্ধকার জগতের নথিপত্র আবারও জনসমক্ষে আসায় তোলপাড় শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের (Jeffrey Epstein) সঙ্গে সম্পর্কিত লাখ লাখ নতুন ফাইল গত শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (DOJ)। এই নথিগুলো প্রকাশের পর থেকেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। প্রকাশিত নথিতে গেটসের ব্যক্তিগত জীবন এবং এপস্টেইনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে এমন কিছু দাবি করা হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।
রুশ তরুণীদের সঙ্গে সম্পর্ক ও যৌনরোগের দাবি
প্রকাশিত নথির একটি অংশে বিল গেটসের ব্যক্তিগত জীবনের এক অন্ধকার দিক নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, বিল গেটস এক সময় রুশ তরুণীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতেন। নথিতে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দেওয়া হয়েছে যে, এই ধরনের সম্পর্কের জেরে গেটস এক পর্যায়ে যৌনবাহিত রোগে (STI - Sexually Transmitted Infection) আক্রান্ত হন। উল্লেখ্য, এর আগেও এক রুশ ব্রিজ প্লেয়ারের সঙ্গে বিল গেটসের সম্পর্কের গুঞ্জন ডালপালা মেলেছিল, যা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিস্তর লেখালেখি হয়।
রক্ষাকর্তা হিসেবে এপস্টেইনের ভূমিকা
নথিতে সবচেয়ে বিতর্কিত যে তথ্যটি উঠে এসেছে তা হলো—বিল গেটস যখন সেই গোপন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন, তখন তাঁর ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন জেফরি এপস্টেইন। দাবি করা হয়েছে, বিল গেটসের সেই রোগ নিরাময়ের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও প্রয়োজনীয় ওষুধ গোপন চুক্তির (Secret Deal) মাধ্যমে জোগাড় করে দিতেন এপস্টেইন। বিষয়টি যাতে জানাজানি না হয় এবং গেটসের সামাজিক ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ থাকে, সেজন্য এপস্টেইন তাঁর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিশেষ ব্যবস্থায় এই ওষুধের জোগান দিতেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার গেটস শিবিরের
এপস্টেইন ফাইলসে এমন গুরুতর ও অস্বস্তিকর তথ্য সামনে আসার পরপরই বিল গেটসের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। গেটসের এক মুখপাত্র এই অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ এবং ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দাবি, জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে বিল গেটসের পরিচয় ছিল কেবল জনহিতকর বা দাতব্য কাজের আলোচনার সূত্রে এবং এপস্টেইন গেটসের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে যেসব দাবি করেছিলেন, তার কোনো সত্যতা নেই। গেটস শিবিরের মতে, এপস্টেইন নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য গেটসের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে মিথ্যা আখ্যান তৈরি করেছিলেন।
এপস্টেইন ফাইলসের প্রভাব ও বৈশ্বিক তোলপাড়
জেফরি এপস্টেইনের ডায়েরি এবং তাঁর বাসভবন থেকে উদ্ধার হওয়া নথিপত্র গত কয়েক বছর ধরেই বিশ্বের অনেক রথী-মহারথীর ঘুম কেড়ে নিয়েছে। প্রিন্স অ্যান্ড্রু থেকে শুরু করে বিল ক্লিনটন—এপস্টেইনের ‘ব্ল্যাক বুক’-এ নাম থাকা ব্যক্তিদের তালিকা বেশ দীর্ঘ। এবারের নতুন ফাইলগুলো প্রকাশের ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানের নামও নতুন করে জড়াতে শুরু করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত এই ‘এপস্টেইন পেপারস’ (Epstein Papers) আগামী দিনে বৈশ্বিক রাজনীতি ও কর্পোরেট জগতে বড় ধরনের সংস্কার বা নতুন কোনো আইনি পদক্ষেপের পথ প্রশস্ত করতে পারে।
আপাতত বিল গেটসকে নিয়ে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগ তাঁর ব্যক্তিগত ইমেজ এবং মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিতে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।