• জাতীয়
  • ভোটের বরিশালে ১৬ হাজার বাহিনীর পাহাড়াদারী: ‘ত্রিস্তরীয়’ নিশ্ছিদ্র সুরক্ষায় ঘেরা হচ্ছে তিলোত্তমা জেলা

ভোটের বরিশালে ১৬ হাজার বাহিনীর পাহাড়াদারী: ‘ত্রিস্তরীয়’ নিশ্ছিদ্র সুরক্ষায় ঘেরা হচ্ছে তিলোত্তমা জেলা

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
ভোটের বরিশালে ১৬ হাজার বাহিনীর পাহাড়াদারী: ‘ত্রিস্তরীয়’ নিশ্ছিদ্র সুরক্ষায় ঘেরা হচ্ছে তিলোত্তমা জেলা

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে জল ও স্থলে নজিরবিহীন নজরদারি; মোতায়েন থাকছে সেনাবাহিনী থেকে কোস্টগার্ড পর্যন্ত সাতটি বাহিনীর সমন্বিত ‘Security Shield’।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে এক অভেদ্য দুর্গে পরিণত হচ্ছে বরিশাল। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের লক্ষে জেলাজুড়ে মোতায়েন করা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ১৬ হাজার সদস্য। মূলত তিন স্তরের একটি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় বা ‘Security Layer’ তৈরির মাধ্যমে ভোটারদের নিরাপত্তা ও কেন্দ্রের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে যাচ্ছে প্রশাসন। গত রোববার বরিশাল জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল এবং ‘Vigilance and Observation Team’-এর গুরুত্বপূর্ণ সভায় এই মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সাত বাহিনীর সমন্বিত শক্তিবলয়

বরিশালের নির্বাচনি ময়দানে এবার একযোগে কাজ করবে সাতটি বাহিনী— সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, আনসার ও র‍্যাব। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের অভ্যন্তর থেকে শুরু করে দূরবর্তী জনপদ এবং নদীপথগুলোকেও এই কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। একটি সুপরিকল্পিত ‘Integrated Security Plan’-এর মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

মাঠ পর্যায়ে পুলিশ ও আনসারের আধিপত্য

নিরাপত্তার প্রধান কারিগর হিসেবে মাঠে থাকছে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর বিশাল জনবল। বরিশাল জেলা পুলিশের অধীনে সাধারণ কেন্দ্রগুলোতে ২ জন এবং ‘Sensitive’ বা গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ৩ জন করে সশস্ত্র পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। পুরো জেলায় জেলা পুলিশের ১ হাজার ৩৮২ জন সদস্যের পাশাপাশি ৯৯টি ‘Mobile Team’ এবং ১২টি ‘Striking Team’ সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে।

অন্যদিকে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) এলাকার ১৯৯টি কেন্দ্রের নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন ১ হাজার ২৮৫ জন সদস্য। প্রযুক্তির ব্যবহারে এক ধাপ এগিয়ে থেকে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে বিএমপি পুলিশ এবার ১০৩টি ‘Body-on Camera’ ব্যবহার করবে। তবে সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে বড় বাহিনী হিসেবে থাকছে আনসার ও ভিডিপি। মোট ১০ হাজার ৮২৯ জন আনসার সদস্যের মধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে ৩ জন সশস্ত্র সদস্যসহ ১৩ জন করে সদস্য মোতায়েন থাকবেন, যার মধ্যে নারী সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সেনাবাহিনী ও বিজিবির কঠোর নজরদারি

শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ‘Striking Force’ হিসেবে কাজ করবে সেনাবাহিনী ও বিজিবি। বরিশাল জেলায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ জন সেনা সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি উপজেলায় গড়ে ১০০ জন এবং মেট্রোপলিটন এলাকায় ৪০০ জন সেনা সদস্য অবস্থান নেবেন। প্রতি দুই থেকে তিনটি ইউনিয়নের জন্য একটি করে ‘Patrol Team’ কাজ করবে। বিজিবির ১৪ প্লাটুন সদস্য জেলার কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে মোতায়েন থাকবে, যার মধ্যে সদর এলাকায় থাকবে ৫ প্লাটুন। পাশাপাশি র‍্যাবের ৬টি বিশেষ পেট্রোল টিম অপরাধ দমনে সার্বক্ষণিক তৎপর থাকবে।

নদীপথে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ‘ব্ল্যাকেট সিকিউরিটি’

ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে বরিশালের নির্বাচনি নিরাপত্তায় জলপথ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নদীপথগুলোতে কড়া পাহারা দেবে নৌবাহিনী। বিশেষ রণতরী ‘BNS Salam’ (বানৌজা সালাম)-এ চড়ে ৬০ জন কর্মকর্তা ও নাবিক নদী এলাকায় টহল দেবেন। এছাড়া দুর্গম মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে কোস্টগার্ডের প্রায় ১৫০ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। নদী তীরবর্তী ৮টি ঝূঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের সুরক্ষায় থাকবে নৌ পুলিশ।

বরিশাল জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. খায়রুল আলম সুমন সংবাদমাধ্যমকে জানান, “নির্বাচনকে ঘিরে আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ক্রমাগত জোরদার করা হচ্ছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘Zero Tolerance’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

Tags: returning officer coast guard army deployment election security election monitoring barishal election security plan bns salam police patrol ansar vdp