গ্রেপ্তার ও প্রথম মুহূর্তের ধাক্কা ফারিয়া জানান, তার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছে এমন খবর তিনি আগেই শুনেছিলেন। কিন্তু সে সময় দেশের বাইরে থাকায় বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব দেননি। গানের শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে গিয়েই তিনি প্রথম পরিস্থিতির ভয়াবহতা টের পান। অভিনেত্রী বলেন, পুলিশ যখন আমাকে আটকে দিল, আমি ভেবেছিলাম হয়তো কোনো ভুল হচ্ছে। কিন্তু আমাকে যখন ডিটেনশন রুমে নিয়ে যাওয়া হলো, তখন বুঝতে পারলাম আমি গ্রেপ্তার হতে যাচ্ছি। মুহূর্তের মধ্যে আমার পৃথিবীটা যেন থমকে গিয়েছিল।
** ৪৮ ঘণ্টার বড় শিক্ষা** কারাগার থেকে বের হওয়ার পরের অভিজ্ঞতা জানিয়ে নুসরাত ফারিয়া বলেন, জেলে কাটানো মাত্র দুই দিনেই তিনি জীবনের বড় শিক্ষা পেয়েছেন। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি ছিল তার চারপাশের মানুষদের আচরণে। তিনি বলেন, এই ঘটনার পর সবচেয়ে কাছের বন্ধুরাও সামাজিক মাধ্যম থেকে তার সঙ্গে থাকা ছবি সরিয়ে ফেলেন। যেন তারা স্পষ্ট করে দিতে চেয়েছিলেন, এই মুহূর্তে তার সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত থাকতে চান না। অনেকে যোগাযোগও বন্ধ করে দেন। ফারিয়ার ভাষ্য, এই মাত্র ৪৮ ঘণ্টাই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে কে আমার আপন, আর কে নয়। তিনি আরও বলেন, যাদের জন্য বছরের পর বছর নিঃস্বার্থভাবে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি, সেই মানুষগুলোর অস্তিত্বও নতুন করে চিনেছি।
কারাগারে অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা উপস্থাপকের প্রশ্নের জবাবে নুসরাত ফারিয়া জানান, এক দিন এক রাত তাকে জেলে থাকতে হয়েছিল। জেলজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, জেলের ভেতরে জেলার থেকে শুরু করে সবাই যে সহানুভূতি আর ভালোবাসা দিয়ে আমাকে ট্রিট করেছে, আমি বলব— আমি 'ভেরি ব্লেসড'। তিনি আরও বলেন, 'ইভেন ইনসাইড দেম... আমি রেসপেক্টেড ছিলাম, আমাকে নাইসভাবে ট্রিট করা হয়েছে। কোনো ধরনের ডিসরেসপেক্ট ছিল না, বরং আমি ভালোবাসাই পেয়েছি।'
অচেনা মানুষের মানবিকতা অভিনেত্রী জানান, শারীরিক ও মানসিক কষ্টের মধ্যেও তিনি মানবিকতা পেয়েছেন। ফারিয়া বলেন, আমার তো খাওয়াই হজম হয়নি, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আমি কিছু খাইনি। কিন্তু দেখেছি, মানুষজন আমাকে লতি দিয়ে ভাত খাইয়ে দিচ্ছে। সকালে রুটি ছিঁড়ে মিষ্টি কুমড়া দিয়ে খাওয়াচ্ছে। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার চোখ দিয়ে টিয়ারড্রপ পড়ছে, আর ওরা আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে। এমন মানুষ, যাদের আমি চিনি না, হয়তো জীবনে আর কখনো দেখবও না। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ফারিয়া বলেন, ওই 'ক্রুশাল মোমেন্টে' তারা আমার সঙ্গে কিছু না হয়ে শুধু ভালো আর দয়ালুই ছিল।
মামলার পটভূমি উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ মে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নুসরাত ফারিয়াকে আটক করা হয়। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে থাইল্যান্ড যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে ভাটারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর 'হত্যাচেষ্টা'র অভিযোগে ভাটারা থানায় একটি মামলা হয়, যেখানে ফারিয়াকে আসামি করা হয়।