• খেলা
  • ‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হবেই’: পাকিস্তান সরকারের বয়কট বার্তার মাঝেও কেন আশাবাদী অশ্বিন?

‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হবেই’: পাকিস্তান সরকারের বয়কট বার্তার মাঝেও কেন আশাবাদী অশ্বিন?

খেলা ১ মিনিট পড়া
‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হবেই’: পাকিস্তান সরকারের বয়কট বার্তার মাঝেও কেন আশাবাদী অশ্বিন?

আর্থিক ক্ষতি ও সম্প্রচারকদের চাপের মুখে পাকিস্তান পিছু হঠতে বাধ্য হবে— ইউটিউব চ্যানেলে চাঞ্চল্যকর দাবি ভারতীয় তারকার।

ক্রিকেটে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের লড়াই মানেই মাঠ ও গ্যালারির ঊর্ধ্বে এক অনন্য আবেগ এবং কোটি কোটি ডলারের বৈশ্বিক বাণিজ্য। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে (T20 World Cup) কেন্দ্র করে এই হাই-ভোল্টেজ দ্বৈরথ নিয়ে যখন চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই এক নতুন সমীকরণের কথা শোনালেন ভারতীয় স্পিন জাদুকর রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তার মতে, বর্তমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নাটকীয়তা সত্ত্বেও এই মেগা ম্যাচ মাঠেই গড়াবে।

আইসিসির হুঁশিয়ারি ও পাকিস্তানের অনড় অবস্থান দীর্ঘ টালবাহানার পর পাকিস্তান ক্রিকেট দল বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সবুজ সংকেত পেলেও, তাদের সরকার ভারতের বিপক্ষে নির্দিষ্ট ম্যাচটি ‘বয়কট’ করার নির্দেশ দিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘকাল দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ থাকায় আইসিসি ইভেন্টেই (ICC Events) কেবল এই দুই দলের দেখা মেলে। ফলে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ থেকে আসা বিশাল অঙ্কের রেভিনিউ (Revenue) থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। সম্প্রচারকদের (Broadcasters) বড় অঙ্কের লোকসান এড়াতে ইতিমধ্যে পাকিস্তানকে সতর্কবার্তা দিয়েছে আইসিসি, যা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

অশ্বিনের ১০০ শতাংশ নিশ্চয়তা এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এক বিশ্লেষণী আলোচনায় রবিচন্দ্রন অশ্বিন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, “ম্যাচটা শতভাগ হবে। আমার বিশ্বাস, আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই পাকিস্তান তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে পিছু হঠবে। একজন পেশাদার ক্রিকেটার এবং ক্রিকেট অনুরাগী হিসেবে আমিও এই দ্বৈরথটি দেখার অপেক্ষায় আছি।”

অর্থনৈতিক চাপ ও বাণিজ্যিক সমীকরণ অশ্বিন মনে করেন, কেবল আবেগের বশবর্তী হয়ে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া পাকিস্তানের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, “পাকিস্তান এই ম্যাচ বয়কট করলে চরম আর্থিক ক্ষতির (Financial Loss) মুখে পড়বে। শুধু আইসিসি নয়, গ্লোবাল ব্রডকাস্টারদের স্বার্থ বিঘ্নিত হলে তারা আইসিসির ওপর চাপ তৈরি করবে। এছাড়া আইসিসির লভ্যাংশ ভাগাভাগির ক্ষেত্রে অন্যান্য সদস্য দেশগুলো যখন দেখবে পাকিস্তানের একগুঁয়েমির কারণে তাদের প্রাপ্য অর্থ কমে যাচ্ছে, তখন তারাও পাকিস্তানের বিপক্ষে সোচ্চার হবে।”

অশ্বিন আরও ইঙ্গিত দেন যে, এই সংকটের প্রভাব পড়তে পারে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও। পাকিস্তানের এমন অনড় অবস্থানের কারণে পিএসএলে (PSL) বিদেশি খেলোয়াড়দের এনওসি (NOC) বা অনাপত্তিপত্র দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ডগুলো কড়াকড়ি আরোপ করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত দেশটির ক্রিকেটের বাজারমূল্য (Market Value) কমিয়ে দেবে।

অপেক্ষায় বিশ্ব ক্রিকেট ক্রিকেট মহলের মতে, অশ্বিনের এই বিশ্লেষণ মূলত কঠিন বাণিজ্যিক বাস্তবতার প্রতিফলন। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ কেবল একটি খেলা নয়, এটি একটি গ্লোবাল ব্র্যান্ড। এর আগে অনেকবার রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ম্যাচ বাতিল হওয়ার উপক্রম হলেও শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটের জয় হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি এবং বিশ্ব ক্রিকেটের বাণিজ্যিক চাপের মুখে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত অশ্বিনের ভবিষ্যৎবাণী মেনে পিছু হঠে কি না।

Tags: cricket news india pakistan world cup icc revenue t20 tournament ashwin prediction sports boycott psl news match updates global broadcasting