• জাতীয়
  • প্রত্যাশার পারদ ১২ ফেব্রুয়ারি ঘিরে: ব্যালট যুদ্ধে শামিল হতে প্রস্তুত ‘নতুন বাংলাদেশ’, সাধারণের চাওয়া কেবল ‘ন্যায্য ভোট’

প্রত্যাশার পারদ ১২ ফেব্রুয়ারি ঘিরে: ব্যালট যুদ্ধে শামিল হতে প্রস্তুত ‘নতুন বাংলাদেশ’, সাধারণের চাওয়া কেবল ‘ন্যায্য ভোট’

জাতীয় ১ মিনিট পড়া
প্রত্যাশার পারদ ১২ ফেব্রুয়ারি ঘিরে: ব্যালট যুদ্ধে শামিল হতে প্রস্তুত ‘নতুন বাংলাদেশ’, সাধারণের চাওয়া কেবল ‘ন্যায্য ভোট’

১৫ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার প্রতীক্ষায় প্রবীণ থেকে তরুণ; তৃণমূলের দাবি কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, চাই ইনসাফ, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব একটি ‘Accountable Government’।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। ক্যালেন্ডারের এই একটি তারিখের দিকে এখন তাকিয়ে আছে গোটা বাংলাদেশ। ২৪-এর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম কোনো সাধারণ নির্বাচনে শামিল হতে যাচ্ছে দেশ। কেবল ক্ষমতা পরিবর্তন নয়, বরং সাধারণ মানুষের কাছে এই নির্বাচন হলো হারিয়ে যাওয়া ‘Voting Rights’ বা ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াই। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই এখন একটিই সুর: নির্বাচন হতে হবে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক। বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ‘Political Stability’ এবং আন্তর্জাতিক মহলে দেশের ভাবমূর্তি।

ভাঙ্গাব্রিজের মোতালেবদের হাহাকার: চাই কেবল একটু স্বীকৃতি

সাভারের আমিনবাজার এলাকার ভাঙ্গাব্রিজ। শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে একদল জেলেকে দেখা গেল সরকারি উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছ শিকারে ব্যস্ত। তাদেরই একজন মোতালেব। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে জাল ঠেলে সংসার চালালেও আজও জোটেনি একটি ‘Jele Card’ বা সরকারি জেলে পরিচয়পত্র। মোতালেবদের দাবি খুব সামান্য—ক্ষমতায় যারা আসবেন, তারা যেন প্রান্তিক মানুষের কষ্টের কথাগুলো শোনেন।

মোতালেব বলেন, “পৌষ-মাঘ-ফাল্গুন মাসগুলোতে আমাদের কাজ থাকে না। তখন পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হয়। যে সরকারই আসুক, আমাদের চাওয়া অন্তত বেকার সময়টাতে সরকার যেন একটু খোঁজ রাখে।” একই দলের সদস্য বাদলের দীর্ঘশ্বাস আরও গভীর। তিনি বলেন, “১৫ বছর ভোট দিতে পারিনি। এবার শুধু চাই একটি সুষ্ঠু পরিবেশে নিজের পছন্দের মানুষকে ভোট দিতে।”

মায়সারা বেগমদের লড়াই: সিন্ডিকেটমুক্ত বাজার ও সামাজিক নিরাপত্তা

রূপগঞ্জের শ্রমজীবী নারী মায়সারা বেগম। এক বিঘা জমিতে কঠোর পরিশ্রমে সবজি ফলিয়েছেন, ফলনও হয়েছে বাম্পার। কিন্তু বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বা ‘Market Syndicate’-এর কারণে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না তিনি। ২০ বছর আগে স্বামী মারা গেলেও আজও কপালে জোটেনি বিধবা বা বয়স্ক ভাতা।

মায়সারা বেগমের ক্ষোভ ও আর্তি স্পষ্ট: “দেশের শৃঙ্খলা ফেরাতে পারে এমন একটা সরকার চাই। যারা আমার মতো অসহায় মানুষের খোঁজ নেবে।” প্রান্তিক এই নারীদের চাওয়া কেবল রাজনৈতিক ম্যান্ডেট নয়, বরং একটি ‘Welfare State’ বা কল্যাণকামী রাষ্ট্র।

তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন: ‘Gen-Z’-এর প্রথম ভোট ও ডিজিটাল বাংলাদেশ

গ্রামের মেগা সিটি ঢাকার রাজপথেই দানা বেঁধেছিল ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান। সেই লড়াইয়ের অগ্রভাগে থাকা তরুণদের জন্য এবারের নির্বাচন এক অন্যরকম আবেগ। বিশেষ করে যারা এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন (First-time Voters), তাদের চোখেমুখে এক অদ্ভুত আকাঙ্ক্ষা।

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক তরুণ ভোটার বলেন, “এতদিন ভোট নিয়ে কোনো উৎসাহ ছিল না। কিন্তু এবার আমরা আমাদের ভোট দিয়ে এমন প্রতিনিধি নির্বাচন করব, যারা আধুনিক, প্রযুক্তি সচেতন এবং দুর্নীতিমুক্ত। আমরা একটি ‘Transparent’ বা স্বচ্ছ রাষ্ট্রব্যবস্থা দেখতে চাই।”

বিশ্লেষকদের উদ্বেগ: গণতন্ত্রের অস্তিত্বের লড়াই

বিগত কয়েকটি জাতীয় নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতা সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি করেছিল। তাই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কোনো ধরনের ত্রুটি বা অনিয়ম কাম্য নয় বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও বিশ্লেষক জেসমিন তুলি বলেন, “এই নির্বাচন কেবল ভোট গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি দেশের অস্তিত্বের লড়াই। রাজনৈতিক দলগুলোকে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা করতে হবে। নির্বাচনে পরাজিত পক্ষকেও শক্তিশালী এবং দায়িত্বশীল বিরোধী দল বা ‘Shadow Cabinet’-এর ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।”

উপসংহার: ব্যালটেই কি ফিরবে ইনসাফ?

তৃণমূল থেকে মেগা সিটি—সবার নজর এখন নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতার ওপর। বৈষম্য বিলোপের যে গণজোয়ার দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে, তার সফল প্রতিফলন ঘটবে ব্যালট বাক্সে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। ১২ ফেব্রুয়ারি কেবল একটি ভোটের দিন নয়, বরং এটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের সূচনালগ্ন।

Tags: bangladesh election political stability election 2024 fair vote public expectation grassroots voice first time voter democracy reform