দীর্ঘ সাত বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ভারতীয় সিনেমার রুপালি পর্দায় ফিরছেন গ্লোবাল আইকন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। আর তাঁর এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ঘটছে ভারতের অন্যতম সফল পরিচালক এসএস রাজামৌলির হাত ধরে। রাজামৌলির পরবর্তী হাই-বাজেট প্রজেক্ট ‘বারাণসী’ (Varanasi)-তে দেখা যাবে প্রিয়াঙ্কাকে। তবে এই ব্লকবাস্টার সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগে পরিচালককে একটি বিশেষ শর্ত দিয়েছিলেন অভিনেত্রী। আর সেই শর্ত পূরণ করতে গিয়ে রীতিমতো বেগ পেতে হয়েছে ছবির নায়ক, টলিউড (দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি) সুপারস্টার মহেশ বাবুকে।
নাচের টানেই কি ফিরলেন প্রিয়াঙ্কা?
সম্প্রতি এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া নিজেই ফাঁস করেছেন সেই নেপথ্য কাহিনি। তিনি জানান, প্রায় ছয়-সাত বছর বলিউড বা ভারতীয় কোনো মূলধারার ছবিতে কাজ না করায় ‘দেশি নাচে’র প্রতি তাঁর আলাদা এক তৃষ্ণা তৈরি হয়েছিল। রাজামৌলি যখন তাঁকে ‘বারাণসী’র প্রস্তাব দেন, তখন প্রিয়াঙ্কা সোজাসুজি একটি অনুরোধ (Condition) রাখেন। প্রিয়াঙ্কার ভাষায়, “আমি রাজামৌলি স্যারকে বলেছিলাম, আমার চরিত্রের জন্য যেন অন্তত একটি বিশেষ নাচের দৃশ্য বা গান রাখা হয়। অনেক দিন পর্দায় মন খুলে নাচিনি, তাই এই সুযোগটা আমি ছাড়তে চাইনি।”
মহেশ বাবুর ‘নাভিশ্বাস’ ও নাচের অভিজ্ঞতা
প্রিয়াঙ্কার এই নাচের আবদার মেটাতে গিয়ে রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয়েছে অভিনেতা মহেশ বাবুকে। প্রিয়াঙ্কা মজার ছলে বলেন, “বেচারা মহেশকেও আমার জন্য এই কঠিন কোরিওগ্রাফিতে (Choreography) অংশ নিতে হয়েছে। ও অনেকটা মজা করেই বলেছিল— তোমার নাচের শখ পূরণ করতে গিয়ে এখন আমাকেও কোমর দোলাতে হচ্ছে!”
মহেশ বাবুও সেই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে জানিয়েছেন যে, গানটি অত্যন্ত শ্রুতিমধুর এবং এর শ্যুটিং বেশ আনন্দদায়ক ছিল। মহেশের কথায়, “আমরা ইতোমধ্যে গানটির শ্যুটিং শেষ করেছি। সুরটি এতটাই চমৎকার যে সারাক্ষণ মাথায় ঘুরতে থাকে। শ্যুটিং ফ্লোরে প্রিয়াঙ্কাও সারাক্ষণ গুনগুন করে গানটি গাইছিল, যা পুরো পরিবেশটাই বদলে দিয়েছিল।”
অ্যাকশন ও মার্শাল আর্টে মহেশ বাবুর মেকওভার
কেবল নাচ নয়, রাজামৌলির এই সিনেমাটি হতে চলেছে এক বিশাল অ্যাকশন এন্টারটেইনার। এই ছবিতে নিজের লুক এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজ আমূল বদলে ফেলেছেন মহেশ বাবু। চরিত্রের প্রয়োজনে তাঁকে কেরলের ঐতিহ্যবাহী মার্শাল আর্ট (Martial Art) শিখতে হয়েছে। বিশেষ করে ‘রাম’ চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে নিজের শরীরকে আরও নমনীয় ও হালকা করেছেন তিনি। মহেশ বাবু জানান, রাজামৌলির সিনেমায় কাজ করা মানেই এক কঠোর ডিসিপ্লিন (Discipline) এবং দীর্ঘদিনের ডেডিকেশন।
বিগ বাজেট ও গ্লোবাল ডিসকোর্স
এসএস রাজামৌলির ‘বারাণসী’ নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। একদিকে প্রিয়াঙ্কার কামব্যাক, অন্যদিকে মহেশ বাবুর সাথে রাজামৌলির প্রথম কাজ— সব মিলিয়ে এই ছবিটিকে ‘গ্লোবাল ফিনোমেনন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিনেমাটি একই সাথে একাধিক ভারতীয় ভাষায় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের।