প্রত্যাশার বোঝা নিয়ে যাত্রা ২০০০ সালে 'রিফিউজি' ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় অভিষেক বচ্চনের। কিন্তু সুপারস্টারের সন্তান হওয়ায় তাঁর ওপর প্রত্যাশার চাপ ছিল আকাশচুম্বী। শুরুর দিকের বেশ কিছু ছবি আশানুরূপ সাফল্য না পাওয়ায় তাঁর ক্যারিয়ারে অস্থিরতা দেখা দেয়। তবে এই কঠিন সময়েও তিনি হাল না ছেড়ে একের পর এক কাজে নিজেকে ধরে রেখেছেন এবং অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছেন। এই ধৈর্যই পরবর্তীকালে তাঁর ক্যারিয়ারের প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়।
ক্যারিয়ারের মোড় ঘোরানো সময় অভিষেকের ক্যারিয়ারে মোড় আসে 'যুবা' ছবির মাধ্যমে। এরপর 'ধুম' সিরিজ তাঁকে এনে দেয় বাণিজ্যিক সাফল্য ও দর্শকের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। এই সাফল্যের পর তিনি বুঝতে পারেন, এক ধরনের ইমেজে আটকে না থেকে অভিনয়ে বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন।
'গুরু', 'বান্টি অউর বাবলি', 'কভি আলবিদা না কহেনা', 'দিল্লি সিক্স'-এর মতো ছবিতে তিনি নিজেকে নানা চরিত্রে প্রমাণ করেছেন। কখনো সফল ব্যবসায়ী, কখনো প্রেমিক, আবার কখনো জটিল পারিবারিক সম্পর্কের মধ্যে থাকা মানুষ—বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতার পরীক্ষা নিয়েছেন।
নতুন প্ল্যাটফর্মে প্রাসঙ্গিকতা সাম্প্রতিক সময়ে অভিষেক বচ্চন ধীরে ধীরে অনলাইন ধারাবাহিক ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকেছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রযুক্তির পরিবর্তনকে অনুসরণ করা নয়, বরং বাস্তবতা মেনে নেওয়ার ফল। কারণ, অনলাইন কনটেন্টে চরিত্রগুলি গভীর এবং গল্পে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ বেশি থাকে। এই মাধ্যমে কাজ করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে বয়স বা সময় পরিবর্তিত হলেও নিজেকে শিল্পের মূল স্রোতে প্রাসঙ্গিক রাখা সম্ভব। এই পরিবর্তন তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন গতি এনেছে, পাশাপাশি আর্থিকভাবেও এটি লাভজনক হয়েছে।
অভিনয়ের বাইরে ব্যবসায়িক উদ্যোগ ও সম্পদ ২০২৬ সাল অনুযায়ী অভিষেক বচ্চনের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ২৮০ কোটি রুপি। এই বিশাল অঙ্কের উৎস কেবল তাঁর অভিনয় নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি কাজ, বিভিন্ন আয়ের উৎস ও পরিকল্পিত বিনিয়োগ।
প্রতিটি ছবিতে অভিনয়ের জন্য তিনি সাধারণত ১০ থেকে ১২ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নেন। যদিও বছরে তাঁর ছবির সংখ্যা কম, তবুও ধারাবাহিক বিনিয়োগ ও অন্যান্য ব্যবসায়িক খাত থেকে তাঁর আয় স্থিতিশীল থাকে। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি প্রযোজনাতেও যুক্ত। তাঁর প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও কনটেন্ট নির্মাণ করছেন, যা তাঁর আয়ের আরেকটি উৎস।
বলিউডের বাইরে তাঁর সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো খেলাধুলায় বিনিয়োগ। তিনি ভারতের ফুটবল লিগের একটি দলের সহ-মালিক, যে দলটি একাধিকবার শিরোপা জিতেছে এবং যার মূল্যও বেড়েছে। এ ছাড়া তিনি কাবাডি লিগের একটি দলের সঙ্গেও যুক্ত, যা জনপ্রিয়তা ও দর্শকসংখ্যার দিক থেকে ক্রমাগত এগিয়ে চলেছে। খেলাধুলার পাশাপাশি তিনি দেশীয় নতুন উদ্যোগ ও ভোক্তাপণ্য খাতেও দীর্ঘমেয়াদি লাভের আশায় বিনিয়োগ করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিলাসবহুল গাড়ি ও দামি বাড়ি (মুম্বাইয়ের অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাট ও দুবাইয়ের বিলাসবহুল ভিলা) থাকা সত্ত্বেও অভিষেক বচ্চন ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি কথা বলতে পছন্দ করেন না। স্ত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে নানা খবর ছড়ালেও তিনি সাধারণত এসব বিষয় এড়িয়ে চলেন।
সাম্প্রতিক কাজগুলির মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যিক সিনেমা 'হাউসফুল ৫' এবং ভিন্ন ধারার 'বি হ্যাপি' ও 'আই ওয়ান্ট টু টক'। চলতি বছর তাঁকে শাহরুখ খান অভিনীত 'কিং' সিনেমার একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে। এ ছাড়া তাঁর অভিনীত আরেকটি সিনেমা 'রাজা শিবাজি'ও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।