ব্যক্তিগত জীবন ও শৈশবের স্বীকারোক্তি
অভিনেত্রী জয়া আহসান অকপটে জানান যে, ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে এক ধরণের কল্পনাপ্রবণতা ছিল, যার কারণে তিনি অন্য সবার চেয়ে কিছুটা আলাদা ছিলেন। তিনি বলেন, “আমি ছোট থেকেই একটু অন্য রকম ছিলাম। একা থাকতে ভালো লাগত, আর কল্পনা প্রবণতা তো আমার শুরু থেকেই ছিল। এখন বললে অনেকে ভুল বুঝবেন হয়তো, আমি ভীষণ মিথ্যেবাদী ছিলাম। নিজের মনে যা বিশ্বাস করতাম, তাই বলতাম। আর সবাই সেটা বিশ্বাসও করে নিত।” তিনি আরও যোগ করেন যে এই সমস্যার উৎপত্তি তার জানা নেই, তবে নিজেকে সামলে নেওয়ার চেষ্টা তিনি করেছেন।
ফিটনেস ও ব্যক্তিগত ভালো থাকার রহস্য
কাজের এত চাপ সত্ত্বেও নিজেকে কীভাবে ফিট রাখেন এবং ব্যক্তিগত জীবনে ভালো থাকেন, সেই রহস্যও উন্মোচন করেন জয়া। তিনি নিজেকে 'প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা মানুষ' হিসেবে অভিহিত করেন এবং জানান তার পোষ্যদের সঙ্গে দিনের অনেকটা সময় কাটে, যা তাকে ভালো রাখে। তিনি মনে করেন, ব্যক্তিগত বিষয়গুলো ব্যক্তিগত রাখতেই তিনি পছন্দ করেন, তাই জীবনে জটিলতাও কম। তার কথায়, “আমাকে বাইরে থেকে মানুষ যে ভাবে চেনেন, সেটা জয়া আহসানের ইমেজ। ভিতরের মানুষটা সম্পূর্ণ আলাদা”।
'ওসিডি' সিনেমা নিয়ে জয়ার ভাবনা
৬ ফেব্রুয়ারি কলকাতার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলা জয়া আহসান অভিনীত সিনেমা 'ওসিডি'র প্রচারে তার ভূমিকা চোখে পড়ার মতো। কেন তিনি 'ওসিডি'র মতো একটি কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হলেন, সে বিষয়েও আলোকপাত করেন তিনি। জয়া মনে করেন, সিনেমাটির বিষয়বস্তু আপাতদৃষ্টিতে কঠিন মনে হলেও এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক দায়িত্ববোধের কাজ।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, শুধু পৃথিবীতে সন্তান আনলেই হয় না, ছোট থেকে তার জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ আমরা দিতে পারছি কি না। তার মতে, শিশুদের মানসিক সমস্যাগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিবার থেকেই তৈরি হয়। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “এ বার সময় এসেছে এই বিষয়টা নিয়ে কথা বলার। শিশুদের জন্য আমরা বাসযোগ্য এক পৃথিবী উপহার দিতে পারছি কি না, এই নিয়েই প্রশ্ন তুলবে এ সিনেমা”। জয়ার মতে, মাতৃত্ব উদ্যাপনের যেমন, তেমনি তা স্বীকার না করার সিদ্ধান্তও একটি সাহসী পদক্ষেপ; বাবা-মা বা অভিভাবক মানেই যে নিখুঁত নন, তা আমাদের মেনে নেওয়া উচিত।