New START চুক্তির সমাপ্তি ও আন্তোনিও গুতেরেসের উদ্বেগ
২০১০ সালে স্বাক্ষরিত 'নিউ স্টার্ট' (New START) নামের কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র হ্রাস চুক্তিটির মেয়াদ মধ্যরাতে শেষ হওয়ার মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতার আপাতত অবসান হলো। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস (António Guterres) এই চুক্তির সমাপ্তিকে "আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য এক ভয়াবহ মুহূর্ত" বলে অভিহিত করেছেন। তিনি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে পরবর্তী কোনো কাঠামো নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
চুক্তির গুরুত্ব ও সমাপ্তির প্রভাব
'নিউ স্টার্ট' চুক্তি একসময় স্নায়ুযুদ্ধ শেষ করতে সাহায্য করেছিল। এ চুক্তির মূল বিষয়গুলো ছিল:
সীমিতকরণ: উভয় দেশ সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫৫০টি কৌশলগত পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্র মোতায়েন করতে পারত।
স্বচ্ছতা: তথ্য আদান-প্রদান ও সরাসরি পরিদর্শনের মাধ্যমে একে অপরের ওপর নজর রাখার ব্যবস্থা ছিল।
বর্তমান ঝুঁকি: গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় "বিশ্ব এখন পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর কোনো বাধ্যবাধকতাহীন এক পরিস্থিতির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।" এই দুই দেশের কাছেই বিশ্বের সিংহভাগ পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত রয়েছে।
অস্ত্র প্রতিযোগিতার নতুন ধারা: হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র
এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং একটি উদ্বেগজনক ধারার অংশ। এর আগে আইএনএফ (INF)-সহ আরও কিছু দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি বাতিল হয়েছে।
নতুন প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা: যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন এমন সব দূরপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র (Hypersonic Missiles) তৈরি করছে, যা ঘণ্টায় ৬ হাজার ৪৩৭ কিলোমিটার বেগে ছুটতে পারে এবং ভূপাতিত করা কঠিন।
রাশিয়ার নতুন অস্ত্র: ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে উত্তেজনার কারণে তিন বছর আগে চুক্তি স্থগিত করা রাশিয়া, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করতে পারে এমন নতুন অস্ত্র তৈরি করছে, যার মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রবাহী টর্পেডো অন্যতম।
চীনের অন্তর্ভুক্তি: ওয়াশিংটন এবং জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন, ভবিষ্যতে যেকোনো অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিতে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা কাঠামোর ঝুঁকি
যুক্তরাজ্যের সতর্কতা: যুক্তরাজ্যের সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক প্রধান অ্যাডমিরাল স্যার টনি রাডাকিন সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বকে নিরাপদ রাখার যে কাঠামো ছিল, তা এখন "ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।"
রুশ অবস্থান: রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, এ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় "সবার আতঙ্কিত হওয়া উচিত।" রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, "বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আর কোনো বাধ্যবাধকতা মানতে বাধ্য নয় এবং নিজেদের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তারা স্বাধীন।"
ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কম উদ্বিগ্ন মনে হয়েছে। তিনি বলেন, "যদি (নিউ স্টার্ট চুক্তির) মেয়াদ শেষ হয়, তবে হবে...আমরা বরং আরও ভালো একটি চুক্তি করব।"
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিউ স্টার্ট চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া "আরও বেশি অস্থিতিশীল ও বিপজ্জনক একটি যুগের" ইঙ্গিত দিচ্ছে।