দিল্লির ব্যাটিং তাণ্ডব
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ২০৩ রানের বিশাল স্কোর গড়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। মেয়েদের আইপিএলে ফাইনালে এটি কোনো দলের করা সর্বোচ্চ রান। দিল্লির শক্তিশালী ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছিল, এবার হয়তো টানা চার ফাইনাল হারের গেরো কাটবে। কিন্তু ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা, যার প্রমাণ আবারও মিলল।
মন্ধানার মাস্টারক্লাস ইনিংস
২০৪ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে একাই টেনে নিয়ে গেলেন অধিনায়ক স্মৃতি মন্ধানা। আগের ম্যাচে ৯৬ রানে অল্পের জন্য শতরান ফসকে গেলেও, ফাইনালে তার ব্যাট থেকে এলো ৮৭ রানের এক বিস্ফোরক ইনিংস। শতরান করতে না পারলেও, তার এই ইনিংসই বেঙ্গালুরুকে জয়ের ভিত গড়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে জয় তুলে নেয় আরসিবি।
ইতিহাস গড়ল আরসিবি
গত বছর বিরাট কোহলির নেতৃত্বাধীন আরসিবির পুরুষ দল আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এবার স্মৃতি মন্ধানার দলও সেই একই কৃতিত্ব অর্জন করে ইতিহাস গড়ল। এই প্রথমবার কোনো ক্রিকেট ফ্র্যাঞ্চাইজি ছেলে ও মেয়েদের আইপিএল—উভয় টুর্নামেন্টের শিরোপাই একই সঙ্গে নিজেদের ঘরে তুলল। এই ক্ষেত্রে পুরুষ দলের থেকে এগিয়ে থাকলেন মন্ধানারা।
ব্যক্তিগত ঝড় সামলে জবাব দিলেন মন্ধানা
কয়েক মাস আগে ভারতের হয়ে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ে অন্যতম বড় ভূমিকা ছিল স্মৃতির। এর পরেই তার ব্যক্তিগত জীবনে ঘটে বিপর্যয়—প্রেমিক পলাশ মুচ্ছলের সঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠান শুরু হয়েও শেষ মুহূর্তে স্থগিত হয়ে যায়, এবং পরে বিয়ে ভাঙার খবর আসে। এই কঠিন সময়ে ক্রিকেটকেই নিজের আশ্রয় করে নেন তিনি। সব আলোচনা, সমালোচনা পিছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েই যেন ব্যক্তিগত ঝড়ের জবাব দিলেন স্মৃতি মন্ধানা, বুঝিয়ে দিলেন—লক্ষ্য থেকে তিনি সরেননি। ফাইনালে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতে তার এই প্রত্যাবর্তন আরও উজ্জ্বল হলো।