রাফাহ সীমান্ত দিয়ে তৃতীয় দলের প্রত্যাবর্তন
ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকার মধ্যেই গাজা উপত্যকায় নতুন জীবনের আশা নিয়ে রাফাহ সীমান্ত আংশিকভাবে পুনরায় চালু হয়েছে। এর ফলে গাজায় তৃতীয় দল হিসেবে আরও ২৫ জন ফিলিস্তিনি দেশে ফিরেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। এই প্রত্যাবর্তনের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে কয়েকজন রোগীকে গাজা থেকে সীমান্তের দিকে স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রত্যাবর্তনকারীদের অভিজ্ঞতা: ধ্বংসলীলা ও মানসিক যন্ত্রণা
মিসরের এল আরিশ শহর ছাড়ার প্রায় ২০ ঘণ্টা পর বাসযোগে ২৫ জনের এই দলটি দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে পৌঁছে। তবে দেশে ফেরা এই ফিলিস্তিনিদের অভিজ্ঞতা ছিল মিশ্র:
মানসিক যন্ত্রণা: ফেরত আসা ফিলিস্তিনিদের অনেকেই শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত ছিলেন। তারা আল জাজিরার প্রতিবেদককে জানান, সীমান্ত পার হওয়ার সময় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তারা জিজ্ঞাসাবাদ, অপমান ও দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন।
ধ্বংসের চিত্র: ফেরত আসা ফিলিস্তিনি আইশা বালাউই রয়টার্সকে বলেন, "এই অনুভূতিটা আনন্দ আর দুঃখের মাঝামাঝি... নিজের দেশের এই ধ্বংস দেখে হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে। আমি কখনো কল্পনাও করিনি ধ্বংস এতটা ভয়াবহ হবে।" তিনি বিদেশে নিরাপদ থাকলেও মানসিক শান্তি পাননি বলেও উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্য স্থানান্তরে ধীরগতি ও Humanitarian Crisis
ফেরত আসাদের কয়েক ঘণ্টা পরই সাত ফিলিস্তিনি রোগী ও তাদের ১৪ স্বজনকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য রাফাহ সীমান্তের দিকে নেওয়া হয়। তবে রোগী স্থানান্তরের গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আল জাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদ।
ধীরগতির হিসাব: চুক্তি অনুযায়ী প্রতিদিন ৫০ রোগী ও তাদের সঙ্গে দুজন স্বজন পাঠানোর কথা থাকলেও, এ সপ্তাহে এখন পর্যন্ত মাত্র প্রায় ৩০ রোগী স্থানান্তর করা হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি শঙ্কা: হানি জানান, এই গতিতে চললে প্রায় ২০ হাজার গুরুতর অসুস্থ রোগীকে স্থানান্তর করতে কমপক্ষে তিন বছর লেগে যাবে। অথচ তাদের অনেকেরই তাৎক্ষণিক চিকিৎসা প্রয়োজন।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের ফলে ২২টি হাসপাতাল সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে এবং অন্তত ১,৭০০ চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি হামলার ধারাবাহিকতা ও আন্তর্জাতিক কমিশনের অভিযোগ
রাফাহ সীমান্ত আংশিক চালুর পরও পুরো উপত্যকাজুড়ে ইসরায়েলি হামলা চলছে।
হামলা: আগের দিন ২৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন। খান ইউনিস, মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এবং গাজা সিটির পূর্ব তুফ্ফাহ এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা, গুলিবর্ষণ ও ভারী কামানের গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।
আইসিএসপিআর-এর দাবি: ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার সহায়তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন (ICSPR) বলেছে, ইসরায়েল রাফাহ সীমান্তকে মানবিক করিডরের বদলে নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্যের হাতিয়ারে পরিণত করেছে।