• আন্তর্জাতিক
  • পুতিনের ‘পরমাণু প্রস্তাব’ ফেরালেন ট্রাম্প: বিশ্বজুড়ে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা, ঝুঁকিতে বৈশ্বিক নিরাপত্তা

পুতিনের ‘পরমাণু প্রস্তাব’ ফেরালেন ট্রাম্প: বিশ্বজুড়ে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা, ঝুঁকিতে বৈশ্বিক নিরাপত্তা

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
পুতিনের ‘পরমাণু প্রস্তাব’ ফেরালেন ট্রাম্প: বিশ্বজুড়ে নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা, ঝুঁকিতে বৈশ্বিক নিরাপত্তা

ওবামা আমলের ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তিকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে বেইজিংকে অন্তর্ভুক্ত করে নতুন চুক্তির ডাক মার্কিন প্রেসিডেন্টের; ক্রেমলিনের কণ্ঠে গভীর উদ্বেগ।

কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও বিশ্বশান্তি রক্ষায় দীর্ঘদিনের বলয় কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দেওয়া পারমাণবিক অস্ত্র সীমাবদ্ধতার মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আর পুরনো বা ‘ত্রুটিপূর্ণ’ কোনো চুক্তির ধার ধারতে চান না; বরং একটি আধুনিক ও শক্তিশালী নতুন চুক্তির পক্ষে তাঁর অবস্থান।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অনমনীয় মনোভাবের ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে ‘Nuclear Arms Race’ বা পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা তীব্র হয়ে উঠেছে।

পুরনো চুক্তিকে ‘খারাপ সমঝোতা’ আখ্যা ট্রাম্পের

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ (Truth Social)-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত ‘নিউ স্টার্ট’ (New START) চুক্তিটি ছিল অত্যন্ত দুর্বল এবং ‘Badly Negotiated’। ট্রাম্পের মতে, মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া এই চুক্তিটি কেবল বাড়ানোর পরিবর্তে পারমাণবিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদী, উন্নত এবং আধুনিক চুক্তি তৈরি করা উচিত যা মার্কিন স্বার্থ ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

ট্রাম্পের এই কৌশলের পেছনে বড় একটি কারণ হলো চীন। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন যে, যেকোনো নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে অবশ্যই বেইজিংকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তবে চীন এখন পর্যন্ত এমন কোনো ‘Trilateral’ বা ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নিতে বিন্দুমাত্র আগ্রহ দেখায়নি।

চুক্তিহীন বিশ্বের ঝুঁকি ও ‘নিউ স্টার্ট’-এর গুরুত্ব

‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তিটি ২০১০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশ সর্বোচ্চ ১,৫৫০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড (Nuclear Warheads) এবং ৭০০টি মোতায়েনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও বোমারু বিমান রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। ১৯৯১ সালের মূল ‘START’ চুক্তির ধারাবাহিকতায় এটি ছিল বিশ্বকে পারমাণবিক ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষার অন্যতম রক্ষাকবচ।

২০২১ সালে জো বাইডেন প্রশাসন এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ পর্যন্ত বাড়িয়েছিল। এখন সেই সময়সীমা পার হওয়ার পর কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি না থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো আন্তর্জাতিক আইনি নিয়ন্ত্রণ রইল না। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বৈশ্বিক ‘Strategic Stability’ বা কৌশলগত স্থিতিশীলতাকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

মস্কোর প্রতিক্রিয়া ও অনানুষ্ঠানিক সমঝোতার গুঞ্জন

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে গভীর হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ক্রেমলিন। পুতিনের প্রস্তাব ছিল, অন্তত এক বছরের জন্য এই সীমাবদ্ধতা স্বেচ্ছায় মেনে চলা হোক। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, রাশিয়া পারমাণবিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে দায়িত্বশীল অবস্থান বজায় রাখতে চাইলেও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সদর্থক সাড়া না মেলাটা দুঃখজনক।

তবে এরই মধ্যে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’। জানা গেছে, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার ফাঁকে আবুধাবিতে মার্কিন ও রুশ প্রতিনিধিরা ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ অনানুষ্ঠানিকভাবে অন্তত ছয় মাস বাড়ানোর বিষয়ে কথা বলেছেন। কোনো আনুষ্ঠানিক দলিলে স্বাক্ষর না করে কেবল একটি ‘Handshake Agreement’ বা মৌখিক সমঝোতার মাধ্যমে এই বিধিনিষেধ বজায় রাখা যায় কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছে।

অস্থিতিশীল ভূ-রাজনীতি ও পারমাণবিক ছায়া

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পুতিন একাধিকবার পশ্চিমা দেশগুলোকে পরমাণু অস্ত্রের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে আসছেন। অন্যদিকে ভারত ও পাকিস্তানের মতো পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ভাবিয়ে তুলছে। এমন এক ‘Geopolitical’ অস্থিরতার সময়ে বিশ্বের দুই প্রধান পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে নিয়ন্ত্রক চুক্তি না থাকাটা ‘Global Security’-র জন্য বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী চীনকে আলোচনার টেবিলে আনা সম্ভব হবে কি না, কিংবা পুতিনের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত রসায়ন কোনো ‘Deal’ তৈরি করতে পারবে কি না—সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।

Tags: donald trump geopolitics vladimir putin global security nuclear warhead kremlin news arms race nuclear treaty new start us russia