পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে জনপদ। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকালে নগরীর শেহজাদ টাউন এলাকায় অবস্থিত তেরলাই ইমামবার্গায় এই শক্তিশালী বিস্ফোরণটি ঘটে। প্রাথমিক প্রতিবেদনে বহু মানুষের হতাহতের আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা পুরো দেশজুড়ে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পাক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’-এর তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী এবং উদ্ধারকারী দলগুলো (Rescue Teams) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং আহতদের হাসপাতালে স্থানান্তরের কাজ শুরু করে।
হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা ও বিশেষ সতর্কতা
বিস্ফোরণের ভয়াবহতা বিবেচনায় ইসলামাবাদের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে ‘Medical Emergency’ জারি করা হয়েছে। পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস (PIMS), পলিক্লিনিক এবং সিডিএ (CDA) হাসপাতালে জরুরি প্রটোকল সক্রিয় করা হয়েছে।
পিআইএমএস-এর নির্বাহী পরিচালক (ED) জানিয়েছেন, বিপুল সংখ্যক আহত মানুষের চাপ সামলাতে হাসপাতালের প্রধান জরুরি বিভাগ ছাড়াও অর্থোপেডিক বিভাগ, বার্ন সেন্টার এবং নিউরোলজি বিভাগগুলোকে সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের জন্য বিশেষ ‘Trauma Center’ এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসক দলকে তলব করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বেষ্টনী ও তদন্ত প্রক্রিয়া
এখন পর্যন্ত বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করতে পারেনি স্থানীয় প্রশাসন। এটি কোনো আত্মঘাতী হামলা (Suicide Attack) নাকি আগে থেকে পুঁতে রাখা কোনো বিস্ফোরক ডিভাইস (IED), তা খতিয়ে দেখছে কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (CTD) এবং বিশেষ তদন্তকারী দল। ঘটনার পর থেকে পুরো শেহজাদ টাউন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং একটি শক্তিশালী ‘Security Perimeter’ তৈরি করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোকে লক্ষ্য করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আজকের এই বিস্ফোরণের পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল এলাকায় বাড়তি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হতাহতের সঠিক সংখ্যা নিরূপণে কিছুটা সময় লাগতে পারে। উদ্ধারকাজ শেষ হলে এবং তদন্তে প্রাথমিক কোনো সূত্র পাওয়া গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব না ছড়াতে এবং সরকারি নির্দেশ মেনে চলতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।