• খেলা
  • বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ: ‘পরিকল্পিত বঞ্চনা’ ও ‘আধিপত্যবাদে’র অভিযোগে ক্রিকেটারদের পাশে জামায়াত আমির

বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ: ‘পরিকল্পিত বঞ্চনা’ ও ‘আধিপত্যবাদে’র অভিযোগে ক্রিকেটারদের পাশে জামায়াত আমির

খেলা ১ মিনিট পড়া
বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ: ‘পরিকল্পিত বঞ্চনা’ ও ‘আধিপত্যবাদে’র অভিযোগে ক্রিকেটারদের পাশে জামায়াত আমির

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের প্রেক্ষাপটে বিসিসিআই ও আইসিসি-র ভূমিকা নিয়ে সরব ডা. শফিকুর রহমান; টাইগার ক্রিকেটারদের দিলেন ভেঙে না পড়ার বিশেষ বার্তা।

বিশ্বজুড়ে যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ডামাডোল শুরু হয়েছে, তখন এক বিষণ্ণ নীরবতা গ্রাস করেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনকে। ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মেগা ইভেন্টে টাইগারদের অনুপস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশকে এবারের আসর থেকে ‘পরিকল্পিতভাবে বঞ্চিত’ করা হয়েছে।

টাইগারদের অনুপস্থিতি: বঞ্চনা নাকি কূটনীতি?

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান দেশের আপামর ক্রিকেট অনুরাগী ও খেলোয়াড়দের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি লেখেন, “আজ আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ শুরু হলো। এমন দিনে স্বাভাবিকভাবেই আমাদের চোখ থাকতো টিভি স্ক্রিনে। সবাই অপেক্ষা করতাম টাইগারদের মাঠের লড়াই আর বিজয়ের আনন্দ দেখতে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে আজ বাংলাদেশের অংশগ্রহণের কথা থাকলেও আমরা সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছি।”

জামায়াত আমিরের মতে, এটি কেবল একটি টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়া নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেট ও লাল-সবুজের পতাকাকে অবমাননা করার নামান্তর। তিনি সরাসরি অভিযোগ তোলেন যে, বাংলাদেশকে বৈশ্বিক এই উৎসব থেকে দূরে রাখা হয়েছে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে।

প্রেক্ষাপট: আইপিএল থেকে ভেন্যু বিতর্ক

এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না থাকার বিষয়টি নিছক ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর ‘Geopolitical Tension’ ও ক্রিকেটীয় কূটনীতি। ঘটনার সূত্রপাত হয় জানুয়ারির শুরুতে, যখন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) তাদের ‘Franchise’ কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দেয় বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে রিলিজ করে দেওয়ার জন্য। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ না দর্শালেও ধারণা করা হয়, ভারত ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ‘Diplomatic Relations’ বা কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতিই এর নেপথ্যে কাজ করেছে।

পরবর্তীতে ‘Security Concerns’ বা নিরাপত্তা উদ্বেগের অজুহাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) জানায়, তারা ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলবে না। বিসিবি ভেন্যু পরিবর্তন করে শ্রীলঙ্কায় খেলার প্রস্তাব দিলেও আইসিসি-র বর্তমান প্রধান, যিনি একজন ভারতীয়, সেই দাবি নাকচ করে দেন। একাধিক বৈঠক ও ‘Diplomatic Standoff’-এর পর আইসিসি আল্টিমেটাম দিলে বিসিবি নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে বিশ্বকাপ বর্জনের ঘোষণা দেয়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত করা হয় স্কটল্যান্ডকে।

আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা

ডা. শফিকুর রহমান তার পোস্টে সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও ইশারায় ‘Dominant Power’ বা আধিপত্যবাদী শক্তির দিকে আঙুল তুলেছেন। তিনি ক্রিকেটারদের সাহস জুগিয়ে লেখেন, “প্রিয় ক্রিকেটার ভাইয়েরা, আমি তোমাদের সাথে সমব্যথী। দেশের মর্যাদা ও স্বপ্নের সাথে কোনো আপোষ নয়। কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে আমরা হার মানতে পারি না।”

তিনি আরও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ অচিরেই বিশ্বমঞ্চে তার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করবে। ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশ ফিরবে মাথা উঁচু করে—গর্ব, শক্তি আর যথাযথ সম্মান নিয়ে।

ক্রিকেট ও রাজনীতির আবর্তে সমর্থকরা

জামায়াত আমিরের এই পোস্টটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক ‘Engagement’ তৈরি করেছে। সাধারণ সমর্থকরাও মনে করছেন, ক্রীড়াঙ্গনে রাজনীতির অনুপ্রবেশ বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তবে মাঠের লড়াইয়ে টাইগারদের অনুপস্থিতি যেমন ভক্তদের হৃদয়ে ক্ষত সৃষ্টি করেছে, তেমনি এই রাজনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থান দেশের সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদার প্রশ্নে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Tags: bangladesh cricket shafiqur rahman sports diplomacy mustafizur rahman t20 world cup bcb news jamaat ameer bcci politics jay shah world cup boycott